তিস্তা নদীর অববাহিকা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে দুই দেশকেই সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। তিস্তা পানি বণ্টন সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতকে বার্ষিক হাইড্রোলজিক্যাল মূল্যায়নে বসতে হবে।

একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত সপ্তম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনের প্রথম দিন বক্তারা এসব কথা বলেন। 'তিস্তা নদী অববাহিকা :সংকট উত্তরণ ও সম্ভাবনা' শীর্ষক তিন দিনব্যাপী ভার্চুয়াল সম্মেলনটি বৃহস্পতিবার শুরু হয়। প্রথম দিন ইতিহাস, আকৃতি, তিস্তা ও এর আশপাশের নদীর স্থানিক পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু বলেন, উত্তরবঙ্গে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন চলছে। এমনকি ভারতীয় জনগণও বর্ষা ও শুস্ক মৌসুমে পানির দুর্ভোগে পড়ছেন। পানি ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা কাজে লাগাতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এনভায়রনমেন্ট রিসার্চের উপদেষ্টা অধ্যাপক ইমেরিটাস ড. আইনুন নিশাত বলেন, তিস্তার পানি ভারতের একতরফা প্রত্যাহার নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি ভারতের আইনেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তঃসীমান্ত পানির ব্যবহার বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় পানির ব্যবহার সম্পর্কিত ১৯৫৮ সালের আইনও এই ধরনের পানি প্রত্যাহারকে সমর্থন করে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মানুষ এখন শুস্ক মৌসুমে তিস্তা হেঁটে পার হতে পারে। ভারতের স্থানীয় জনগণই মনে করে, তিস্তায় বাঁধ নির্মাণ জীববৈচিত্র্য এবং হাজার হাজার মানুষের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং ভূমিতে আদিবাসীদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবির বলেন, পানি ও নদী শাসন, আঞ্চলিক বিরোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন ধারাবাহিকভাবে জনগণের অধিকারকে প্রভাবিত করছে। তাই টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মাধ্যমে নদীকে রক্ষা করা জরুরি।

একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটির চেয়ারপারসন ব্যারিস্টার মনজুর হাসান ওবিই বলেন, পানি কারও নিজস্ব সম্পত্তি নয়। পানির ব্যবস্থা মানবাধিকারের মৌলিক বিষয়।

সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অশোক সোয়াইন তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে একসঙ্গে বসতে শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা ও মানসিকতার অভাব রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন। আর নদীর পানি নিয়ে অন্যের অধিকারের সঙ্গে যাতে আপস করা না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানান জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এশিয়ান অ্যান্ড আফ্রিকান এরিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক ড. রোহান ডি'সুজা।

এ ছাড়া তিস্তা নিয়ে সরকারের দুইশ থেকে তিনশ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন ব্রুনাই দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক অধ্যয়নের সহযোগী অধ্যাপক ইফতেখার ইকবাল।