আগামী দুই সপ্তাহ (৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা হবে না। তবে সেশনজট নিরসনে অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে। খুব দ্রুত এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হবে। শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।  

সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ায় আগামী দুই সপ্তাহ স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন জারির পর এ ঘোষণা আসলো দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি থেকে। 

শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রী পরিষদ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম ২১ জানুয়ারি থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতায় অব্যাহত থাকবে।

এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সীমিত পরিসরে সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। জরুরি পরিষেবা (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট, স্বাস্থ্যসেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি) যথারীতি অব্যাহত থাকবে।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ আবাসস্থলে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হলো। এতে ক্যাম্পাসে সভা, সমাবেশ ও জনসমাগম না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা নেবে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের আইনে চলে। তাই এ বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন। 

সরকারের আজকের এই নির্দেশনার পর শুক্রবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। পরে পরীক্ষার সময়সূচি জানানো হবে। এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে সশরীর ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। 

প্রসঙ্গত, দেশে প্রথম করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সংক্রমণ ও মৃত্যু ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সুপারিশ করেন কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ১৮ মাস পর ২০২১ সালের গত ১২ সেপ্টেম্বর আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। এর পাঁচ মাস পর করোনা ভাইরাস ও এর নতুন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিল সরকার।