প্রায় দেড় মাস পর প্রকাশ্যে এসেছেন নানা বিতর্কে পদ হারানো সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। শনিবার দুপুরে চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারের জানাজায় অংশ নিতে তিনি জামালপুরের সরিষাবাড়ীর দৌলতপুরে যান।

দুপুর ২টা দিকে দৌলতপুরে অ্যাডভোকেট মতিয়র রহমান তালুকদার কলেজ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার শেষে দ্বিতীয় জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় আমিনুর রহমানকে। গার্ড অব অনার শেষে মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ডা. মুরাদ হাসান, তার বড় ভাই বিচারপতি মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপমা ফারিসা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন পাঠান প্রমুখ।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে বড় ভাই ও হাইকোর্টের বিচারপতি মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে সরিষাবাড়ী পৌঁছান মুরাদ হাসান।

এসময় মুরাদ হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে কোনো রাজাকার জন্মগ্রহণ করেনি। কিন্তু জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নে একটি রাজাকারও জন্মগ্রহণ করেনি, এটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি এবং সেই পবিত্র মাটি।’


এক নায়িকার সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস ও নানা বিতর্কের মুখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ৭ ডিসেম্বর প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন মুরাদ হাসান। ৯ ডিসেম্বর রাতে তিনি কানাডার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু সে দেশে ঢুকতে না পেরে ১১ ডিসেম্বর তিনি ফের দেশে ফেরেন। এরপর থেকেই তেমন একটা প্রকাশ্যে ছিলেন না জামালপুর-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদার ১৯৭১ সালে ১১ নম্বর সেক্টরে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে পৌরসভার বীর ধানাটা এলাকায় নিজ বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।