বিধি অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থার সুপারিশ করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ পাঠিয়ে থাকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওইসব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। আবার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধেও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে চিঠি পাঠানো হয়। গত পাঁচ বছরে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে এমন ১০ হাজার ৭৬৬টি চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো ওইসব চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে দুদক। বিগত দিনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) পাঠানো চিঠিগুলোর বিপরীতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর মাউশি মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুককে ডেকে আলোচনা করে কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি দল।

জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সংস্থাপ্রধানদের ডেকে আলোচনা করবে দুদক। সূত্র জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ দুদকের তফসিলভুক্ত নয়, ওইসব অভিযোগই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন-বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, দুদক যেসব সংস্থায় চিঠি পাঠায়, তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কিনা, তা দুদক অবগত নয়। এবার সংস্থাপ্রধানদের কাছে দুদক জানতে চাইবে, তারা কী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন।

দুদক জানায়, ২০১৭ সালে ১৭ হাজার ৯৮৩টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩৭৭টি অভিযোগ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালে পাওয়া ১৬ হাজার ৬০৬টি অভিযোগের মধ্যে এক হাজার ৪০৪টি অভিযোগ পাঠানো হয়। ২০১৯ সালে ২১ হাজার ৩৭১টি অভিযোগের মধ্যে তিন হাজার ৬২৭টি অভিযোগ, ২০২০ সালে ১৮ হাজার ৪৮৯টি অভিযোগের মধ্য থেকে দুই হাজার ৪৬৯টি অভিযোগ ও গত বছর ১৪ হাজার ৮৪৯টি অভিযোগের মধ্য থেকে দুই হাজার ৮৮৯টি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠানো হয়।