শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে অযৌক্তিক দাবি করে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মোহাইমিনুল বাশার।

সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের সূত্রপাত এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কথা বলেন।

এর আগে রোববার সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে শাবির আন্দোলন সম্পর্কে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছিলেন,‘অতি উৎসাহী হয়ে অযৌক্তিক দাবি যদি উপস্থাপিত হয় এবং কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ব্যতীত, এমন অযৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়। মন্ত্রী মহোদয়ের পর্যায় থেকে আলোচনা করা হচ্ছে। সেই আলোচনার পর আমরা যেটি বুঝতে পারছি এখানে ইগো সমস্যা বেশি, বাস্তব সমস্যার চেয়ে।’

উপমন্ত্রীর এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা যা দেখছি, একটি পদ আমাদের সবার প্রাণের চেয়ে, আসলে ওই ভাইস চ্যান্সেলরের পদের দাম বেশি মনে হচ্ছে। যেহেতু গণ অনশনের ডাক দিয়েছি, আমরা এখন ওই দিকেই যাবো এবং মারা গিয়ে এটি প্রমাণ করবো যে, ওই চেয়ারটার দাম আমাদের প্রাণের চেয়ে বেশি!’

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়, লাঠিচার্জ এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে। এ ছাড়াও এ হামলার ঘটনায় পুলিশ নাম উল্লেখ না করে শিক্ষার্থীদের ওপর মামলা করেছে। এর পর আমরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছি। যে গুলি চালাতে পারে, তাকে আমরা চাই না। এটি আমাদের যৌক্তিক দাবি। এ দাবিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন করছে।’

বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে আন্দোলন শুরু হয়। পরে আন্দোলনে হামলা চালায় পুলিশ। এর পর থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। এর মধ্যে ১৯ জানুয়ারি ২টা ৫০ মিনিটে ২৪ শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেন। তখন থেকে তারা এখনও অনশনে রয়েছেন। এর মধ্যে অনেকে হাসপাতালে রয়েছেন আবার অনেকে সেখান থেকে ফিরে অনশনে যোগ দিয়েছেন।