নড়াইলের লোহাগড়ায় মাদ্রাসার এক ছাত্রকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের মন্ডলবাগ আকতার হোসেন এতিমখানা ও রহমানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে। 

নিহত ছাত্রের নাম আরিফ বিল্লাহ (৯)। সে উপজেলার লংকারচর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে । পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের লংকারচর গ্রামের নূর ইসলামের বড় ছেলে আরিফকে মন্ডলবাগ আকতার হোসেন এতিমখানা ও রহমানিয়া মাদ্রাসায় হাফেজি শাখায় ৯ মাস পূর্বে ভর্তি করে।কিছুদিন আগে ওই মাদ্রাসার এক ছাত্রের দুইশ’ টাকা চুরি হয়। বিষয়টি সে মাদ্রাসার শিক্ষকদের অবগত করে। গত সোমবার মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল্লাহ রাত ১১টার দিকে মাদ্রাসার সকল ছাত্রদেরকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নামাজে বসানোর মতো করে বসিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। 

এ সময় আরিফকে আব্দুল্লাহ বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। ঘটনাটি পরিবারের কাউকে না জানাতে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে আরিফ অসুস্থ হয়ে কয়েকদিন ধরে লজিং বাড়িতে না যেয়ে মাদ্রাসায় শুয়ে থাকে। শুক্রবার সকালে ওই গ্রামের লজিং বাড়ির মালিক হাফিজারের স্ত্রী মাদ্রাসায় যেয়ে আরিফকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তার মা- বাবাকে বিষয়টি জানায় । সন্ধ্যায় আরিফকে লজিং বাড়ি থেকে ফুপু রুনা খানম লাহুড়িয়ায় নিজ বাড়িতে নিয়ে স্থানীয় কবিরাজের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়। সেখানে রোববার রাত ৮টার দিকে আরিফ মারা যায়।

আরিফের পিতা নূর ইসলাম জানান, তার সন্তান ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল্লাহর বেধড়ক মারপিটের কারেণ অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। তিনি ছেলে হত্যার বিচার চান।

অভিযুক্ত সাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল্লাহ ও ‘বড় হুজুর’ আশরাফ আলীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে হলেও বন্ধ থাকায় করা যায়নি।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু হেনা মিলন চুরির ঘটনায় সকল ছাত্রদের মারধরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার রাতে নিহত ছাত্র আরিফের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে তার শরীরের আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি ।