নাটোরের বাগাতিপাড়ায় উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়েছে একটি পক্ষ। রোববার দুপুরের সমিতির কার্যালয় চত্বরে এ ঘটনার পর উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইয়ুব আলী ও পৌর যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমানকে কুপিয়ে জখম করা হয়। অস্ত্র হাতে মহড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

এর আগে রাতেই ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০ জনকে আসামি করে বাগাতিপাড়া থানায় মামলা করেন সমিতির নেতা উপজেলার সোনাপাতিল গ্রামের রুহুল আমিন সরকার।

এদিকে বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে লালপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে সোমবার রাতে আবু সাঈদ টুটুল নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গুলি ছোড়া হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন একজন।

বাগাতিপাড়ার ঘটনায় আটক তিনজন হলেন- পেড়াবাড়িয়া গ্রামের মাহাতাব আলী ও তার ছেলে মো. শৈশব এবং লক্ষ্মণহাটি গ্রামের ফারুক হোসেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়া উপজেলা দলিল লেখক সমিতিতে সম্প্রতি আরশেদ আলীকে সভাপতি ও আনিসুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। এ নিয়ে দলিল লেখকদের মধ্যে দুটি পক্ষ সৃষ্টি হয়। কমিটি গঠনে সৃষ্টি হওয়া দ্বন্দ্বের জেরে রোববার দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

আরশেদ আলী জানান, সমিতিতে থাকা কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

সমিতির নেতা রুহুল আমিন সরকার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় এমপি সমর্থিত সমিতির সদস্যরা অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এ নিয়ে কথা বলা হলে তারা ক্ষিপ্ত হন। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া এবং দু'জনকে কুপিয়ে জখম করেন তারা।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আটক তিন জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের আটকে অভিযান চলছে।

এদিকে লালপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে বালুমহাল নিয়ে বিরোধের জেরে সোমবার রাত ৩টার দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ টুটুলের বাড়িতে গুলি ছোড়ে প্রতিপক্ষ। গুলির আঘাতে জানালার কাচ ভেঙে আহত হন টুটুলের বড় ভাবী শারমিন আহম্মেদ দোলা।

পুলিশ ও আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, লালপুরে পদ্মা নদীর গৌরীপুর-লক্ষ্মীপুর চর এলাকায় জোর করে অন্যের জমি কেটে বালু উত্তোলন করে কথিত পান্না বাহিনীর সদস্যরা। এর প্রতিবাদ করেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও ঈশ্বরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ টুটুল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পান্না বাহিনীর প্রধান কাঁকনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী গুলি ছোড়ে টুটুলের বাড়িতে।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক জুবায়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।