দীর্ঘ ১৬৩ ঘণ্টা পর অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহারের মাধ্যমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। যদিও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এ নিয়ে বুধবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের প্রেস ব্রিফিং করার কথা থাকলেও তা হয়নি।

এদিকে, গত ১৬ জানুয়ারির ঘটনার প্রেক্ষাপটে ফিজিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি অবশেষে কাজ শুরু করেছে। ওই দিনের ঘটনার তথ্য ও ভিডিও চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে তদন্ত কমিটি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য ও প্রমাণ চেয়ে তদন্ত কমিটির গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৬ জানুয়ারির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং ভিডিও ক্লিপ আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ফিজিক্যাল সায়েন্সের ডিন অফিসকক্ষের সামনে রক্ষিত বক্সে জমা দেওয়া যাবে। বক্তব্য ই-মেইলেও পাঠানো যাবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রয়োজনে ডাকযোগেও বক্তব্য বা তথ্য শাবির স্কুল অব ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন বরাবর দেওয়া যাবে। আগ্রহীরা ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চাইলে জানাতে পারবে। তথ্য প্রদানকারীর নাম, ঠিকানা, পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে। কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার তাদের তদন্তকাজ শুরুর কথা নিশ্চিত করেছেন।

গত সোমবার শাবির চলমান আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে রাজধানী ঢাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সিলেট মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল তাদের। সেই রাতে জেলা তাঁতী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. লায়েক আহমদ বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অচেনা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া শাবির সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান, রেজা নূর মঈন, এ কে এম মারুফ হোসেন ও ফয়সাল আহমেদকে গতকাল বিকেলে আদালতে পাঠায় জালালাবাদ থানা পুলিশ। সন্ধ্যায় শুনানি শেষে মহানগর হাকিম দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. সুমন ভূঁইয়া সব আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ১৩ জানুয়ারি বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ঘিরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরে ১৬ জানুয়ারি আন্দোলনে নজিরবিহীনভাবে পুলিশি অ্যাকশনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম এত দিন শুরু করেনি।

এদিকে, আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে শাবি শিক্ষক সমিতি। গতকাল সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিবুল আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে প্রাক্তন ছাত্রদের গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।