শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সমর্থনের অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা পদত্যাগ করতে চাইলে তাদের ইচ্ছাপূরণের সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘শাবিপ্রবির উপাচার্যের সাথে সংহতি জানিয়ে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসকল উপাচার্য পদত্যাগ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন, আমরা চাই তাদের ইচ্ছাটা বাস্তবায়ন হোক।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বুধবার বেলা ১২টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ এ কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও এসময় অংশগ্রহণ করেন। 

এই কর্মসূচিতে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমরা ইউজিসিকে দাবি জানাবো প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যে ভূমিকা সেটা যেন তদন্ত করে। শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা যে ইস্যুতে আন্দোলন শুরু করে তা শুধু তাদের সমস্যা নয় এটি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদাবাজ, কমিশন ভোগীদের যারা পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারেন সেসকল ব্যক্তিকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বানানো হচ্ছে। ঐ উপাচার্যের তখন দায়িত্ব পড়ে তার অনুসারী অনুগত শিক্ষক বাহিনী তৈরি করা। এটা একটা মহাপরিকল্পনার অংশ যে বিশ্ববিদ্যালয় হবে একটা রোবট উৎপাদনের কেন্দ্র। তাই দুর্নীতিবাজ উপাচার্যের পেছনে আমরা দেখি শত শত শিক্ষক দাড়িয়ে যায়। এটা একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি।’ 

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূইয়া বলেন, ‘দেশের যতগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রতে অগণতান্ত্রিকতা, স্বৈরতান্ত্রিকতা ও দুর্বৃত্তায়নের আকড়া তৈরি করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পাবলিক পরিসর থেকে বড় মাপের কোনো প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। এমনকি ক্ষুদ্র পরিসরে কোনো প্রতিরোধ-প্রতিবাদ গড়ে উঠার সম্ভাবনা দেখলে রাষ্ট্রীয় এবং সরকারি তৎপরতা তা প্রতিহত করতে তৎপর।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘শাবিপ্রবি উপাচার্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে যতটা তৎপর হতে দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা,গবেষণা এবং বিশ্বমানের করতে যে কর্মতৎপরতার কথা সেটা করতে দেখিনি। এরকম একটি অন্তসারশূণ্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা দেখে আমরা লজ্জাবোধ করছি।’ 

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাদের অনশন ভাঙ্গানো হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরাও জানে, আমরাও জানি কোনো আন্দোলন ব্যর্থ হয় না, কোনো আন্দোলন শেষ হয়ে যায় না। একটি আন্দোলন যখন শেষ সেই আন্দোলন তখন পরবর্তী আন্দোলনের পথ দেখায়। শাবিপ্রবির আন্দোলনকারীরা কেবল তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে কথা বলেনি, তাদের প্রতিবাদের মধ্যে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নৈরাজ্য বিরাজমান তার স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে। রাষ্ট্র কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবার বদলে কন্ঠরোধ করে ধরেছে সেটা এই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে নাঙ্গা হয়ে গেছে।’

শাবিপ্রবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দমাতে ছাত্রলীগ ও পুলিশকে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস এর নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘একসময় পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকলে উপাচার্যরা প্রতিবাদ জানাতেন এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ অবলম্বন করতেন। আজকে এমন দিন যে গণতন্ত্রের দাবিদার সরকার তার সময়ে কথায় কথায় ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকিয়ে শিক্ষার্থীদের উপরে লাঠিপেটা করার ব্যবস্থা করে। পুলিশের আগে পেটাতে আসে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। একটি সভ্য দেশে এটা কী করে সম্ভব হয়? এটা সম্ভব হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত আদব-কায়দা শেখানোর মাধ্যমে। প্রথম বর্ষেই শিক্ষার্থীদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে সঠিক শিক্ষার পরিবর্তে শেখানো হয় কীভাবে রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের আনুকুল্য পাওয়া যায়।’ 

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান সুমন, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক জীবন খন্দকার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মি।