একটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় শ্বশুর ও জামাইকে ২২ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। কোনো অপরাধ না করে কারাভোগ করায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা হলেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর সাখিদারপাড়া গ্রামের শফিউল ইসলাম (৫০) ও মঞ্জুরুল ইসলাম (২৮)। সম্পর্কে তারা শ্বশুর-জামাই।

পরে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি এবং কারামুক্তির আদেশ দেন। ওই আদেশ পেয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ তাদের মুক্তি দেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি ভুয়া ছিল উল্লেখ করে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।

বিনা অপরাধে কারাভোগের শিকার শফিউল ইসলাম বলছেন, আমাদের মতো আর যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয়। বিনা অপরাধে কারাভোগের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করছি।

জানা গেছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২ এর মামলা নম্বর ৭২/২০২০ অনুযায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলার বাদী তাহমিনা রহমান। এ মামলায় তাহমিনা তার স্বামী এস এম আব্দুস সামাদকে আসামি করেন। এজাহারে আসামির বাড়ি পাবনার সদর উপজেলার চরপ্রতাপপুর। যৌতুক দাবি করার অভিযোগে তাহমিনা রহমান স্বামীর বিরুদ্ধে ওই মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলামকে। 

এ বিষয়ে শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ২৮ ডিসেম্বর রাতে নিজ নিজ বাড়িতে তারা ঘুমাচ্ছিলেন। গভীর রাতে ক্ষেতলাল থানা তাদের ঘুম থেকে ডেকে নাম জিজ্ঞাসা করে এবং ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২ এর সিল ও বিচারকের স্বাক্ষরযুক্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখান। এরপর হাতকড়া পরিয়ে ক্ষেতলাল থানায় নিয়ে যায়। পরের দিন ক্ষেতলাল থানার পুলিশ তাদের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে জামিন চাইলে আবেদন নামঞ্জুর হয়। পরে তাদের জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। জয়পুরহাট কারাগার থেকে ৭ জানুয়ারি তাদের ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। 

গ্রেপ্তারের পর জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২ এর বিচারকের কাছে নথি পাঠানো হয়। ঢাকার ওই আদালতের বিচারক ৭২/২০২০ নম্বর মামলার নথি পর্যালোচনা করে শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলাম নামের কেউ এ মামলার আসামি নন এবং তাদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জাল ও ভুয়া বলে জয়পুরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ জানুয়ারি একটি আদেশের অনুলিপি পাঠান।

অনুলিপি পেয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম কারাগারে থাকা শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলামকে ১১ জানুয়ারি অব্যাহতি দেন এবং তাদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিচারক জাহাঙ্গীর আলম জাল ও ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রস্তুত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নীরেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় শফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যেভাবে ইস্যু করা হয়, তার সবই সঠিক ছিল।