ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে গেস্টরুম বন্ধে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ২০২০-২১ সেশনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আকতারুল ইসলামের উপর গেস্টরুমে নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিলেরও দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী শাহীনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। 

মানববন্ধনে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান এনাম বলেন, গেস্টরুমের নামে আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনের এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।  আকতারুলের উপর যারা নির্যাতন করেছে তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় এনে বহিষ্কারের দাবি জানাই৷  

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসা ইসলাম সাকাফি বলেন, ‘আমরা পড়াশোনা করে ম্যানার শিখেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ম্যানারের নামে যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে সেটি হচ্ছে একজন শিক্ষার্থীকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন। আকতার অসুস্থ থাকলেও তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে লাইটের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হয়। কোনো সুস্থ মানুষও কিছুক্ষণ লাইটের দিকে তাকিয়ে থাকলে তিনি অসুস্থ হয়ে যাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গেস্টরুমের তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের সহপাঠী আকতারকে যারা নির্যাতন করেছে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হোক৷ প্রশাসনের প্রতি দাবি থাকবে আইন করে গেস্টরুম বন্ধ করা হোক।’

আন্তজার্তিক বিভাগের রিফাত রশীদ বলেন, ‘আমরা অনেক স্বপ্ন, ত্যাগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু হলে কতিপয় গোষ্ঠী আমাদের শকুনের মতো খাবে, তা আমরা বুঝিনি। আমরা নিম্নবিত্ত। আমাদের কাড়িকাড়ি টাকা নেই যে বাইরে মেসে থাকব। এর সুযোগ নিয়ে আমাদের নির্যাতন করা হবে, লাঞ্ছিত করা হবে—এটা অন্যায়।  আমরা পরিবার, সমাজ, শিক্ষক থেকে ম্যানার শিখেই এসেছি। আমাদের গেস্টরুমের নামে এই নির্যাতনের সমাপ্তি চাই৷ বাবা মা অনেক কষ্ট করে আমাদের পড়ালেখা করিয়ে মানুষ করেছেন৷ তাইলে আমরা কেন অন্যের দ্বারা নির্যাতিত হব।’

এছাড়া নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংহঠন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল।