অর্থপাচারের অভিযোগে পানামা পেপার্সে নাম আসা সন্দেহভাজন আরও ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বৃহস্পতিবার এই তালিকা দাখিল করা হয়। আগামী রোববার এ বিষয়টি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে।

এর আগে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর প্রথম তালিকায় ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করেছিল দুদক। 

জানতে চাইলে দুদকের মুখ্য কৌসুলি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশীদ আলম খান সমকালকে বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপের তালিকায় আরও ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে জমা দেওয়া হয়েছে। এদের নাম পানাম পেপার্সও প্রকাশ করেছিল।’

তিনি জানান, দ্বিতীয় ধাপের তালিকার সঙ্গে প্রথম তালিকায় যে ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছিল, সেই নামও যুক্ত করা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত দুদকের সবশেষ পূর্ণাঙ্গ তালিকা। 

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। নতুন কোনো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলে হাইকোর্টে দাখিল করা হবে।’

এদিকে গত বুধবার অর্থপাচারের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্স এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে নাম আসা ৬৯ জনের একাটি তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তালিকায় অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত পানামা পেপার্সে নাম আসা ৪৩ জন এবং প্যারাডাইস পেপার্সে আসা ২৬ জন ব্যক্তির নাম,ঠিকানা ও আংশিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। আগামী রোববার হাইকোর্টের একই বেঞ্চে দুদক ও বিএফআইইউ'র তালিকা নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএফআইউ এবং দুদকের পৃথক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, অনেকক্ষেত্রে একই ব্যক্তির নাম তিনটি প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্যউপাত্তগুলো অধিকাংশক্ষেত্রে পানামা পেপার্স ও প্যারাডাইস পেপার্স এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদক ও বিআইইউ'র প্রতিবেদন পর্যালোচনা দেখা যায়, সব মিলিয়ে ২১টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম নতুন করে তালিকাবদ্ধ হয়েছে।

তারা হলেন- (প্রথম তালিকা) টাইটান এলায়েন্সের পরিচালক এএফএম রহমাতুল বারী,স্টার্স ইউনির্ভাসেল লিমিটেডের খাজা শাহাদাত উল্লাহ, মোহাম্মদ শাহেদ মাসুদ, সভরেন ক্যাপিটাল পিটিই লিমিটেডের ক্যাপ্টেন এমএ জাউল, লাকী ড্রাগন ম্যানেজমেন্টের মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম,ইল্ডারস্টারের ফাহরা মুরাদ,নোভেল প্যাসেফিক ওয়াল্ডওয়াইডের শহিদুল ইসলাম,ইন্ডারলাইট লিমিটেডের মিয়া রফিকুল, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী এবং দ্বিতীয় তালিকার কোম্পানিজ ইনভেস্টমেন্টের কফিল এইচএম মুয়ীদ, মেহবুবা চৌধুরী, ইন্ড্রস্টিয়াল মাকেন্টাইল সার্ভিসেসের নভেরা চৌধুরী, ওরাকন ইনোয়েভেশনের ইউসুফ রায়হান রেজা, ডায়নামিক ওয়াল্ড হেল্ডিংয়ের ইশরাক আহমেদ,সনিস্কাই ইন্টারন্যাশনালের ফরহাদ গণি মোহাম্মদ, এশিয়ান ক্যাপিটাল ভেনচারের বিলকিস ফাতিমা জেসমিন, কমিউনিকেশন কোম্পানী লিমিটেডের রজার বার্ব, জাইন ওমর, নোভেল স্টাডার্ড লিমিটেডের মো. আবুল বাশার, জাডে উইন্ড লিমিটেডের সরকার জীবন কুমার, বেস্ট নীট ইন্টারন্যাশনালের মো. আফজালুর রহমান।

২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সে নাম আসা অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় সংশ্নিষ্ট পক্ষগুলো হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে আসছে।

কর ফাঁকি দিয়ে নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়া, আইন অমান্য করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার ও অবৈধ আয়ে বৈধ ক্ষমতার মালিক হওয়া নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে নানা গুঞ্জন রয়েছে।

এরই মধ্যে ২০১৬ সালের এপ্রিলে পানামা পেপারস নামে দুর্নীতির সংবাদ আসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। যেখানে বিশ্বের সাবেক ও বর্তমান শতাধিক রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, খেলোয়াড়, অভিনেতা, শিল্পী অনেকের নাম ছিল।

২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর প্রকাশ হয় একই ধরনের আরেকটি তালিকা, যা পরিচিতি পায় প্যারাডাইস পেপারস নামে। এখনও এই পেপারে থাকা নানা নাম প্রকাশ হচ্ছে। এই দুই জায়গায় বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে।