শাস্তি পেলেন সেই উপসচিব মো. লোকমান আহমেদ। প্রতিবেশীদের হত্যার হুমকি, অসদাচরণ, মিথ্যা পরিচয় দেওয়া নানা অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে লোকমানের প্রতিবেশীরা বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি জিডি করেছিলেন। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তা; থাকেন রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারে। যারা লোকমানের বিরুদ্ধে জিডি করেন তারা সবাই সরকারি কর্মকর্তা। লোকমানের ভয়ে সবাই তটস্থ থাকতেন। এ ঘটনা নিয়ে গত বছরের ২৯ আগস্ট সমকালে 'এক উপসচিবের বিরুদ্ধে এক ডজন জিডিশিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর চাঞ্চল্য তৈরি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় 'লঘুদণ্ড' হিসেবে তিন বছরের জন্য তার বেতন গ্রেড নিম্নতর ধাপে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, লোকমান আহমেদ কয়েকজনকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। অনেককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। কারও গাড়ির গ্যারেজে আগুন ধরিয়ে দিতে চেয়েছেন। এ ছাড়া প্রায়ই লাঠি ও ব্যাট নিয়ে বাসিন্দাদের মারতে উদ্যত হন। যখন-তখন গালমন্দ করেন অকথ্য ভাষায়।

গত বছরের ১৮ মে উপসচিব লোকমানের বিরুদ্ধে জিডি করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব মো. হাসানুজ্জামান। জিডিতে তিনি বলেন, গত ৯ মে ভোর সোয়া ৫টায় লোকমান টেলিফোনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। ছেলেমেয়েকে হত্যার হুমকি দেন। তাদের কোয়ার্টার ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এরপর ১৮ মে আবার টেলিফোনে গালমন্দ, ছেলেমেয়েসহ তাকে হত্যার ভয় দেখান। জিডিতে এও বলা হয়, লোকমান কোয়ার্টারের অনেক বাসিন্দাকে এরই মধ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। তার ভয়ে সবাই তটস্থ।

২২ এপ্রিল লোকমানের বিরুদ্ধে আরেকটি জিডি করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২২ এপ্রিল সকাল সোয়া ৭টার দিকে কোয়ার্টারের ৯ ও ১১ নম্বর ভবনের মাঝে প্রাতঃভ্রমণকালে লোকমান একটি লাঠি নিয়ে তার দিকে ছুটে আসছিলেন। এরপর নিরাপত্তারক্ষী আলাউদ্দিন ও মোশারফকে ডাক দেন সুবোধ। দু'জন গিয়ে লোকমানের গতিরোধ করেন। যুগ্ম সচিবকে হত্যা ও তার গ্যারেজে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন ওই উপসচিব। এ ছাড়া তার স্ত্রীকেও অশালীন ভাষায় গালমন্দ করেন। জিডির আরেক বাদী হলেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. রেবেকা সুলতানা। এছাড়া প্রতিকার চেয়ে জিডি করেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ডা. মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদও। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থার ডিএস পরিচয় দিয়ে মনজুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তার প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে নির্দেশ দেন লোকমান।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসচিব লোকমান আহমেদ বেইলি স্কয়ার অফিসার্স কোয়ার্টারের ১৬/১১ নম্বর বাসায় বসবাস করেন। তার পার্শ্ববর্তী ১৬/১২ নম্বর বাসায় বসবাসকারী ডা. শেখর কুমার মন্ডল ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং নিজেকে সচিব বা যুগ্মসচিব বা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ের মাধ্যমে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে 'সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮' অনুযায়ী 'অসদাচরণ'-এর অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে লোকমান আহমেদের বিরুদ্ধে আনা 'অসদাচরণ' এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।