ঢাকার মিরপুরের সাবলেট ভাড়াটিয়া মার্জিনা আক্তারকে (৩০) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গলা কেটে মরদেহ প্যাকেটের মধ্যে রাখা হয়। রাতে সেই মরদেহ বস্তায় ভরে সিএনজিতে নিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। মাঝে-মধ্যে খোঁজ নেয় মরদেহ কি অবস্থায় রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পর পুলিশ সেই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে অজ্ঞাত হিসেবে দাফনের ব্যবস্থা করে। এরপর ক্লুলেস এ হত্যার রহস্য বের করতে মাঠে নামে পুলিশ। শুক্রবার মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্জিনা আক্তার হত্যার রহস্য উন্মোচন ও ১১ দিনের মাথায় হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মাসুদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম মোল্যা জানান, সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম গ্রামের মোশারফ হোসেনে মেয়ে মার্জিনা আক্তার (৩০) স্বামীর সঙ্গে ৬ বছর আগে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর একই ঢাকায় থাকতেন। মিরপুরে মাসুদের ভাড়া করা বাসায় সাবলেট হিসেবে ভাড়া থেকে মার্জিনা আক্তার ডেন্টাল হাসপাতালে কাজ শিখছিলেন। মার্জিনা তার স্বর্ণালংকার মাসুদকে দেন বন্ধক রেখে টাকা এনে দেওয়ার জন্য। মাসুদ ওই স্বর্ণালংকার বন্ধক না রেখে তা বিক্রি করে দেন। মার্জিনাকে জানানো হয় ২০ হাজার টাকায় স্বর্ণালংকার বন্ধক রাখা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে মার্জিনা ২০ হাজা‌র টাকা মাসুদকে দিয়ে স্বর্ণালংকার ফেরত চান। এ নিয়ে মার্জিনার সঙ্গ মাসুদের কথাকাটাকাটি হয়। গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে মাসুদ মার্জিনাকে গলায় গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর স্ত্রী রেখার সহায়তায় মরদেহের গলা কেটে কাগজের কার্টুনে প্যাকেট করে। রক্ত যাতে বের না হয় সেজন্য কার্টুনকে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরিয়ে নেয়। ওইদিন সন্ধ্যার পর একটি সিএনজি ভাড়া করে বস্তাটি নিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ওয়াইজনগর গ্রামে একটি খালের পানিতে ফেলে দেয়। মাঝে মধ্যে মাসুদ খোঁজ নিয়ে গেছেন মরদেহ কি অবস্থায় রয়েছে। মাসুদ নিশ্চিত ছিলেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কেউ জানতে পারবেন না। কারণ হত্যার ২১ দিন পর ১৪ জানুয়ারি পুলিশ ওয়াইজনগর থেকে বস্তাভর্তি প্যাকেটটি উদ্ধার করে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ হিসেবে দাফনের ব্যবস্থা করেন। সিংগাইর থানায় ক্লুলেসবিহীন একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়।

এই হত্যা মামলা নিয়ে মাঠে নামে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিংগাইর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক আব্দুল হালিম কৌশলে ১১ দিন তদন্ত করে নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে শেখ মাসুদ (৩৮) ও তার স্ত্রী রেখাকে (৩৩)। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ স্বীকার করেন, মার্জিনা আক্তারকে হত্যারর কথা। মাসুদের দেখানো মতো নারায়নগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্রে ধরে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর মার্জিনার ভাই মহিদুর রহমান ও বোন লিপি আক্তার ছবি দেখে শনাক্ত করেন খুন হওয়ার অজ্ঞাত ওই নারী তাদের বোন মার্জিনা আক্তার।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান জানান, ১১ দিন পুলিশ এই হত্যার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার এবং নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার আসামিদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দির জন্য আদালতে তোলা হবে। যারা নিহতের ভাই বোন পরিচয় দিয়েছেন প্রয়োজন হলে তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।