যথাসময়ে উপস্থিত হতে না পারায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ভর্তি হতে না পারা নিপুণ বিশ্বাস ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন। এক আসন বাড়িয়ে তাকে ভর্তির সুযোগ করে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মেহেদী হাসান সই করা একটি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নিপুণ বিশ্বাসের বিষয়টি উপাচার্যকে জানালে তিনি বিষয়টির মানবিক দিক বিবেচনায় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে একটি আসন বাড়িয়ে তাকে ভর্তি নেওয়ার জন্য ডিনস কমিটিকে অনুরোধ করেন। উপাচার্যের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে একটি আসন বাড়িয়ে নিপুণকে ভর্তি করানোর বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয় ডিনস কমিটি।

এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সমকাল অনলাইনে '৮ মিনিট দেরি হওয়ায় ‌'সোনার হরিণ' হারালেন নিপুণ!' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর মঙ্গলবার মানবিক দিক বিবেচনা করে সেই শিক্ষার্থী নিপুণকে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে একটি আসন বাড়িয়ে তাকে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। 

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি কমিটি নিয়ম মেনেই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু আরেকটু অপেক্ষা করলে এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হতো না। নিপুণ বিশ্বাস সমাজের একটি অনগ্রসর পরিবারের সদস্য। আমি এটা জানতে পেরে ডিনস কমিটির জরুরি সভার নির্দেশ দিই। স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলেও বুধবার সে ভর্তি হতে পারবে। যবিপ্রবি প্রশাসন সব সময় শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। গণমাধ্যমসহ যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা যারা এ ঘটনা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচরে আনতে সহায়তা করেছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।  

এ বিষয়ে নিপুণ সমকালকে বলেন, 'আমি খুবই আনন্দিত। অবশেষে আমি ভর্তির সুযোগ পাচ্ছি। সমকালসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম আমাকে নিয়ে প্রতিবেদন করে। এর পরপরই আজকে আমি ভর্তির সুযোগ পাচ্ছি, এটা জেনে খুব খুশি আমি। পড়াশুনায় ভাল ফলাফলের মাধ্যমে আমার প্রতি মানুষের এমন ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই আমি।' 

নিপুণ বিশ্বাসের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নে। তার বাবা প্রেমানন্দ বিশ্বাস পেশায় একজন নরসুন্দর।

যবিপ্রবি ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৫টায় যবিপ্রবির স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে ২০২০-২১ সেশনে তৃতীয়বারের মতো ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টার মধ্যে উপস্থিত হতে না পারায় ভর্তি হতে পারেননি নিপুণ বিশ্বাস। তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান ততক্ষণে বেজে যায় ১২টা ৮ মিনিট। ১৫ হাজার টাকায় মাইক্রোবাস ভাড়া করে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন তিনি।

নিপুণ বিশ্বাস বলেন, তার কোনো স্মার্টফোন নেই, যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে নোটিশটি দেখতে পারেননি। এমনকি তার মোবাইলে (সাধারণ ফোন) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো কল বা মেসেজও যায়নি। মাঝরাতে তার এক বড় ভাই ফোন করে বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি জানান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আশপাশের লোকজন ও নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে ২৩ হাজার টাকার ব্যবস্থা করেন।

এরপর নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য ১৫ হাজার টাকায় একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেন। কিন্তু যশোর থেকে নীলফামারীর দূরত্ব বেশি এবং রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দুপুর ১২টা ৮ মিনিট বেজে যায়।

তিনি যখন গাড়িতে ছিলেন তখন এক বড় ভাইকে ফোন করে বলেন, তার ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে দেরি হবে। ক্যাম্পাসের ওই বড় ভাই বিষয়টি ডিনকে জানান। নিপুণ যখন ক্যাম্পাসে পৌঁছান তখন জানতে পারেন মেরিট লিস্টে তিনি প্রথমে থাকলেও তৃতীয় সিরিয়ালে থাকা এক শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। এরপর অনেক অনুনয়-বিনয় করেও ভর্তি হতে পারেননি নিপুণ।

>>৮ মিনিট দেরি হওয়ায় ‌'সোনার হরিণ' হারালেন নিপুণ!