জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৮ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না.... রাজিউন)।

বায়তুল মোকাররমের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান সমকালকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন মাওলানা সালাহ উদ্দিন। অসুস্থতার কারণে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ছুটিতে যান। এরপর আর দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।

জাতীয় মসজিদের খতিবের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুম সালাহ উদ্দিনের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিকরা খতিবের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।

প্রয়াত খতিবের শ্যালক হাবিবুর রহমান জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে মাওলানা সালাহ উদ্দিনের প্রথম জানাজার নামাজ হবে। এরপর জিগাতলায় দ্বিতীয় ও মিরপুরে তৃতীয় জানাজা হবে। মরহুম সালাহ উদ্দিনের ইচ্ছানুযায়ী মিরপুরে তাকে তার পীরের পাশে দাফন করা হবে।

১৯৪৪ সালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার হাজরাদী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন মাওলানা সালাহ উদ্দিন। ১৯৬৪ সালে কামিল পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথমস্থান অর্জন করেন। ১৯৮৪ সালে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষায় ডিগ্রি লাভ করেন।

ঢাকার সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়ার অধ্যক্ষ ছিলেন মাওলানা সালাহ উদ্দিন। প্রধান মাওলানা হিসেবে সরকারি থেকে অবসরে যান। ২০০৯ সালে জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি দেশের সব ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য ছিলেন। মাওলানা সালাহ উদ্দিন তিন মেয়ে এবং এক ছেলে রেখে গেছেন।