স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য বিভাগকে বিকেন্দ্রীকরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে আমরা বিকেন্দ্রীকরণ করছি। প্রতিটি বিভাগে হাসপাতাল নিয়ে যাচ্ছি। জাপানের অর্থায়নে ৮টি বিভাগে ৮টি ইমেজিং সিস্টেম স্থাপন করা হচ্ছে। যেখানে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই থাকবে। ৮টি বিভাগে ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে ব্রাঞ্চ আমরা তৈরি করেছি। আরও হাসপাতাল করা হবে যাতে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। যেভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ঢাকায় আসার দরকার নেই। ঢাকায় এলে ব্যয় হয়। তাদের অনেক কষ্ট হয়। ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ অনেক বেশি পড়ে।

বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে মহাখালীতে ক্যানসার হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ৮টি বিভাগে ৮টি ক্যানসার হাসপাতাল স্থাপনে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। এগুলো চালু হলে ঢাকায় আসতে হবে না। তাদের আর্থিক সাশ্রয় হবে। যার মাধ্যমে অনেকের জীবন বেঁচে যাবে। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,আমাদের দেশে আয়ু বাড়ছে। এখন লোকে ৭০-৮০ বছর বাঁচে। সে কারণেও কিন্তু তারা ক্যানসারের ঝুঁকিতে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে চিকিৎসা দেওয়া যায়। অনেক ক্যানসার আছে ভালো চিকিৎসা দিলে ভালো হয়ে যায়। সবার জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার। শুধু ঢাকার লোক বা ধন্যাঢ ব্যক্তি ক্যানসার চিকিৎসা ভালো পাবে, অন্যরা পাবে না—এই অবস্থা আমরা চলতে দিতে পারি না। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৬৭ শতাংশ মানুষ ননকমিউনিকেবল ডিজিজে মারা যায়। আমাদের দেশে ২০ লাখ ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী আছেন। প্রতি বছর আরও প্রায় এক-দেড় লাখ মানুষ যোগ হয়। মৃত্যুও হয় প্রায় লাখের কাছে। অর্থাৎ ১ লাখ লোক যদি মৃত্যুবরণ করে বছরে, তাহলে রোজ মারা যায় ২৭৩ জন। সে খবর আমাদের নেই। অথচ করোনার মৃত্যুটাকে আমরা সবাই দেখে থাকি। রোজ জানানো হচ্ছে বলে আমরা এটা জানতে পারি। ক্যানসারে কত লোক মারা যায় সেই হিসাবটা খুব একটা লোকে রাখে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকার বাতাস অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো না। যার ফলে আমাদের লাঙ ক্যানসার হয়, গলায় ক্যানসার হয়। বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার এই দূষিত বাতাসের কারণে হয়। নদী-নালায় শিল্পের বর্জ্য ফেলা হয়। বুড়িগঙ্গার অবস্থা কী রকম। এ সমস্ত নদীর পানি যদি ব্যবহার করা হয়, তাহলে অবশ্যই বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার হতে পারে। আমরা খাবার যেটা খাই, সেখানেই যদি ভেজাল থাকে; রঙ, ফরমালিন মেশানো হয়। যার কারণে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশে খাদ্য উৎপাদনের সময় কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। সেটার কারণেও অনেক লোক ক্যানসারে আক্রান্ত হয়।