অবৈধভাবে তথ্যপাচার ও ঘুষ লেনদেনের মামলায় সাময়িক বরখাস্ত দুই কর্মকর্তা পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন আদালত। দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম বৃহস্পতিবার এ দিন ঠিক করেন।

দুদকের আইনজীবী দাবি করেন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তারা সর্বোচ্চ সাজা পাবেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ বলছেন, দুদক অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে, আসামিরা খালাস পাবেন।

বাছিরের পক্ষে তার আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান এদিন আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। মিজানুরের পক্ষে যুক্তি দেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।

এর আগে দুদকের পক্ষে বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। গত বছর ২৩ ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। অভিযোগপত্রের ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত।

৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলা করেন। ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। একই বছরের ১৮ মার্চ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ আসায় ২০১৯ সালে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে মিজানুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর চার মাস পর তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চালায় দুদক। সেই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান কমিশনের তৎকালীন পরিচালক এনামুল বাছির। অনুসন্ধান চলাকালে ডিআইজি মিজান দাবি করেন, তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা বাছির। এর পক্ষে তাদের কথপোকথনের কয়েকটি অডিও ক্লিপ একটি টেলিভিশনকে দেন তিনি। ওই অডিও প্রচার হওয়ার পর নানা আলোচনা শুরু হয়। ঘুষের অভিযোগ ওঠার পর পরবর্তীকালে তাদের দুজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ২০২০ বছরের ২২ জুলাই এনামুল বাছিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ডিআইজি মিজানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।