বিপিএলে টানা চারবার নিজের দলকে রানার্সআপ হতে দেখলেন খালেদ মাহমুদ। সংগত কারণেই তার মনটা বেশ খারাপ ছিল। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে এক রানে হারের পর বিষয়টি লুকাননি তিনি। অনেকটা মজার ছলেই ফরচুন বরিশালের কোচ বলেন, 'রানার্সআপের ধারাবাহিকতা বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমি রানার্সআপ কোচ হয়ে যাচ্ছি।' তবে এই হার বিশ্নেষণে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের একটা দুর্বলতার কথা নতুন করে সামনে তুলে এনেছেন জাতীয় দলের 'টিম ডিরেক্টর'। তার মতে, এবারের বিপিএল বুঝিয়ে দিয়েছে, খেলায় পরিস্থিতি বুঝে খেলার সেই 'গেম সেন্সে'র বড় ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। এমনকি এবারের আসরে সাকিব ও তামিম ছাড়া আর কারও পারফরম্যান্স তার নজরে পড়েনি বলেও হতাশার সঙ্গে জানান খালেদ মাহমুদ।

জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন খালেদ মাহমুদ। তাই তো বরিশালের হার ছাপিয়ে তার মাথাব্যথা টুর্নামেন্টে স্থানীয়দের পারফরম্যান্স নিয়ে, 'দেখেন, বিদেশি ক্রিকেটাররা কী করল, গেইল কী করল, ব্রাভো কী করল, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমাদের ক্রিকেটাররা কী করল। ম্যাচ উইনার কয়জন বের হলো।' মাহমুদের মতে, এবারের বিপিএলেও স্থানীয় খেলোয়াড়রা তেমন উঠে আসতে পারেননি। সেটার উদাহরণ হিসেবে বরিশালকেই টেনে আনলেন তিনি, 'আপনি যদি বরিশালে দেখেন (স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে), এক সাকিব ছাড়া ওই অর্থে কেউ জ্বলে উঠতে পারেনি। সাকিব তো জাতীয় দলে আছেই। আমরা চাইছিলাম জুনিয়র কেউ উঠে আসুক। মুনিম (শাহরিয়ার) কিছুটা করেছে, সৈকত (ফাইনালে) করেছে... রানা ও শফিকুল কিছুটা ভালো বোলিং করেছে। কিন্তু আমি চাই এমন পারফরম্যান্স আরও ধারাবাহিকভাবে হোক।' অন্য দলগুলোরও নতুন কেউ চোখে পড়েনি বলেও জানান তিনি, 'সাকিব, তামিম, মুস্তাফিজ- এবারও এই তিনজনই। সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে, এই তিনজন ছাড়া নতুন কাউকে আমার চোখে পড়েনি। অথচ আমার চাওয়া ছিল, তরুণরাও সাকিবের মতো ম্যাচের পর ম্যাচ পারফর্ম করুক, তামিমের মতো ধারাবাহিক ব্যাটিং করুক। '

ক্রিকেটীয় দক্ষতার সঙ্গে দেশীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে 'গেম সেন্সের'ও অভাব দেখছেন খালেদ মাহমুদ, 'আমাদের ছেলেদের এটাই শিখতে হবে, কোন বোলারকে আপনি মারবেন, কাকে মারবেন না। আমরা সবসময় বলি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের গেম সেন্সের কথা। ফাইনাল দেখলেই বোঝা যাবে, আমাদের গেম সেন্সের কতটা অভাব। ২ উইকেটে একশর বেশি রান। সেখানে থেকে ম্যাচ হারার কোনো কারণই আমি দেখি না। আপনি যদি শেষের দিকে ওভারপ্রতি ৬ রান তাড়া করতে না পারেন, তাহলে তো খুবই জঘন্য ব্যাপার।' এই সহজ টার্গেট তাড়া করতে না পারাদের অভিজ্ঞতার অভাবও দেখছেন না তিনি, 'ওরা সবাই তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ওদের অনভিজ্ঞ বলবেন কীভাবে? সোহান, শান্ত, তৌহিদ হৃদয়- ও হয়তো তরুণ। তার পরও সে পেশাদার ক্রিকেট খেলছে অনেক দিন ধরে।' ব্যর্থতার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আরেকটি কমন কথা হচ্ছে, আমরা শিখছি। এই শেখার গতিতেও খামতি দেখছেন খালেদ মাহমুদ, 'ওরা অনেক খেলেছে, অনেকগুলো বিপিএল তো হলো ওরা শিখছে। শেখার গতি বাড়াতে হবে। অভিজ্ঞতার কথা বলেন, হয়তো বলবেন বয়স তো আছে। কিন্তু বয়সের সঙ্গে শিখতেও তো হবে তাড়াতাড়ি। না হলে কয়েক বছর পর তো আমাদের খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়া দায় হয়ে যাবে।'