যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রায় সাত বছর পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় রোববার প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে সাক্ষাতে ঢাকায় নিযুক্ত লিবিয়ার চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স রাহোমহ এম আর এয়াহই বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফি সরকারকে উৎখাতে আন্দোলন এবং আন্দোলনকারীদের সমর্থনে ন্যাটোর বিমান হামলার পর থেকে লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। দেশটিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃত জাতীয় ঐক্যের সরকার থাকলেও দেশের বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে গৃহযুদ্ধে শামিল নানা মিলিশিয়া গ্রুপ।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ২০১৫ সালে লিবিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ। গত বছরের মার্চে প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ফের কর্মী পাঠাতে লিবিয়া সফর করে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় লিবিয়ায় কর্মী পাঠানোর ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে।

রোববার প্রবাসী কল্যাণ ভবনে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স তার দেশে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সুশৃঙ্খল অভিবাসন, মানবপাচার প্রতিরোধ ও অবৈধ অভিবাসন বন্ধের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন লিবিয়ার দূত।

লিবিয়ায় কর্মী পাঠানোয় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশিরা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশটিতে যাচ্ছেন। যাদের বড় অংশ লিবিয়া থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন। লিবিয়ায় বহু বাংলাদেশি দালালের হাতে জিম্মি হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে উদ্ধার পেয়েছেন। গত বছর লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আর ভূমধ্যসাগরে ডুবে শতাধিক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। গত মাসেও সাতজনের মৃত্যু হয় ঠান্ডায়।

রাহোমহ এম আর এয়াহই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বলেন, বর্তমান লিবিয়া সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। লিবিয়ার অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে বাংলাদেশের কর্মীরা ভূমিকা রাখতে পারবেন। লিবিয়া সরকার বিদেশি কর্মীদের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল কাদের, ঢাকাস্থ লিবিয়া দূতাবাসের লেবার অ্যাটাশে আবদুল আজিজ এ. কে. জোহা উপস্থিত ছিলেন।