একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতিসত্তার শেকড় এবং ঐতিহ্যের পরিচয়কে দৃঢ় করেছে বলে অভিমত বিশিষ্টজনদের। 

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বজুড়ে যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে তাতে শুধু বাঙালিরাই উপকৃত হয়নি, বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষই ভাষার অধিকার রক্ষায় সুদৃঢ় ভিত্তি পেয়েছে বলে মনে করেন তারা। 

শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘আন্তর্জাতিক বলয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন। 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অসীম কুমার দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি ও গল্পকার ইকবাল হাসান, লেখক তাজুল ইমাম এবং লেখক ইউসুফ রেজা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক, সাংবাদিক ও মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহা।  অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘জাতিসংঘের সামনে একুশ উদযাপন’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। 

মূল প্রবন্ধে বিশ্বজিত সাহা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতিসত্তার শেকড়ের অনুপ্রেরণার দিন। এই দিনটি ঐতিহ্যের পরিচয়কে দৃঢ় করেছে। ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের মধ্য দিয়ে আজ সেটি সকল ভাষার প্রতীক হয়ে উঠেছে। কানাডাপ্রবাসী বাঙালি রফিক ও সালামের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় দ্রুত ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি প্রদান আজ বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও বাঙালির বিশাল অহঙ্কারের বিষয়।

কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগের পর আন্তর্জাতিকভাবে মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি জন্য প্রচুর চেষ্টা করা হয়। তারপর ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এবং ২০১০ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ। আর এর জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রাখেন প্রবাসী বাঙালিরা। মূলত প্রবাসীদের চেষ্টাতেই আমরা মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেয়েছি। এ ছাড়া দেশে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাঙালি জাতিসত্তাকে জাগ্রত রাখার জন্য প্রবাসীরা এই দিন উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন করেন। মাতৃভাষা দিবসে প্রবাসীদের অবদানও অসামান্য।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের বাইরে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনাসমৃদ্ধ একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন সত্যিই আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তবে শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করাই নয়, প্রবাসী বাঙালি সম্প্রদায়কে এই উদযাপনে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বজুড়ে যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে তা দ্বারা শুধু বাঙালিরাই উপকৃত হয়নি, বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষই ভাষার অধিকার রক্ষায় সুদৃঢ় ভিত্তি পেয়েছে। 

সভাপতির বক্তব্যে অসীম কুমার দে বলেন, বাঙালির মাতৃভাষা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তাদের প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি।