ইউরোপের দেশগুলোতে আশ্রয় চেয়ে সম্প্রতি রেকর্ডসংখ্যক বাংলাদেশি আবেদন করেছেন। তবে তাদের বেশিরভাগই প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। আবেদন মঞ্জুর হওয়ার দিক দিয়ে বাংলাদেশিরা তালিকার সবার নিচে রয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) আশ্রয় আবেদনের প্রবণতা সংক্রান্ত বার্ষিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে ইইউ প্লাস হিসেবে পরিচিত ইইউভুক্ত নরওয়ে, আইসল্যান্ড, লিস্টেনস্টাইনে বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীদের মোট ছয় লাখ ১৭ হাজার ৮০০টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে। এই সংখ্যা ২০২০ সালের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। আশ্রয় আবেদন সবচেয়ে বেশি করেছেন আফগান ও সিরীয়রা। এ তালিকার ওপরদিকে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলো। প্রথম পাঁচে রয়েছে সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান ও তুরস্ক। ইউরোপে আশ্রয় আবেদনে বাংলাদেশিরা আছেন ষষ্ঠ অবস্থানে। গত বছরের চেয়ে তাদের আবেদনের হার তিন-চতুর্থাংশ বেড়েছে। এদের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক 'অপ্রাপ্তবয়স্ক' বাংলাদেশিও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নিজ দেশে বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক কারণে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে বা কারও জীবন হুমকির মুখে থাকলে তিনি ইউরোপের দেশগুলোতে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করতে পারেন। ২০২১ সালে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি এমন আশ্রয় আবেদন করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে এ পরিসংখ্যান প্রকাশের পর থেকে এটি বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ আবেদনের রেকর্ড।

ইইউএএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের তুলনায় গত বছর বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে তাদের প্রায় ৯৬ শতাংশের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

২০২১ সালে সব মিলিয়ে বাংলাদেশিদের প্রায় ১৬ হাজার ৩০০টি আশ্রয় আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে এ সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। তার পরও ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ১২ হাজার ১০০টি আবেদন ঝুলে ছিল। এর মধ্যে পাঁচ ভাগের তিন ভাগ আবেদন করা হয়েছে ছয় মাসের কম সময়ের মধ্যে।

বিষয় : ইউরোপে আশ্রয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম

মন্তব্য করুন