নিজের আপন ভাতিজিসহ ১০২ জনকে বিতর্কিত নিয়োগ প্রদানসহ নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতার অভিযোগের তদন্ত ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলীর পতদ্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। ভিসির বাসভবনসহ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা চত্বরে অবস্থান নেন তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘দুর্নীতিবাজ ভিসির আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ভিসি তুই গদি ছাড়, গদি কি তোর বাপ-দাদার’, ‘ভিসির গদিতে আগুন লাগাও একসাথে’, ‘ভিসির দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’, ‘দুর্নীতি আর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘রুস্তমের কালোহাত ভেঙে দাও’সহ নানান স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ শুরুর কিছুক্ষণ পরেই ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করে। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হাসিবুর রহমান ও পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা চত্বরে অবস্থান নেন। রাত ১০টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘এই ভিসি একজন সর্বোচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজ। তার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে এসে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। নিজের ভাতিজি কানিজ ফাতিমাকে অনিয়ম করে নিয়োগ দেওয়াসহ অস্বচ্ছতা ও যোগসাজশ করে চূড়ান্ত করা ১০২ জনের গণনিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করে আসছিলেন উপাচার্য। তিনি মেয়াদকালের শেষ পর্যায়ে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে যাচ্ছেন। আমরা দুর্নীতিবাজ এমন ভিসির অপসারণ চাই। তার অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

প্রক্টর ড. হাসিবুর রহমান বলেন, ‘রাতে কয়েকজন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তবে আমরা তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছি। তারা বহিরাগত হলে পাবিপ্রবি প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জুয়েল জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব সময়ই পুলিশ অবস্থান নিয়ে থাকেন। ক্যাম্পাসে এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে কিনা তা আমাদের জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে পরে জানাতে পারব।’

পাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক এম রোস্তম আলীর সঙ্গে একাধিবার যোগাযোগ চেষ্টা করা হয়। সাংবাদিকদের পরিচয় দেওয়ার পরই ব্যস্ততার কারণ জানিয়ে ফোন কেটে দেন।

উল্লেখ্য, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে আপন ভাতিজিসহ শতাধিক বিতর্কিত নিয়োগসহ নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

১০ ফেব্রুয়ারি রিজেন্ট বোর্ডের সভাকে কেন্দ্র করে ভিসিকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দিনব্যাপী চরম উত্তেজনার পর রিজেন্ট বোর্ডের সভা স্থগিত করা হয় এবং পাবনা-১ আসনের সাংসদ শামসুল হক টুকুর মধ্যস্ততায় পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।

এছাড়াও ইতোপূর্বে পাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক এম রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে ১০৩টি দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত দাবি করে এককভাবে প্রতীকী অনশন করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. এম আবদুল আলীম। ইতোমধ্যে উপাচার্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে কিছু অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসি ও তদন্ত কমিটি।