প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়েছে অনুসন্ধান কমিটি।

দ্রুত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি এই ১০ জনের মধ্য থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছ নাম জমা দিয়েছেন এবং রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেছেন। এখন রাষ্ট্রপতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নির্দেশনা দেবেন। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই পাঁচজনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সার্চ কমিটির সপ্তম বৈঠকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ১০ জনের নামের তালিকায় সিইসি পদে দু'জন সাবেক আমলা এবং নির্বাচন কমিশনার পদে আট জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন- অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, শিক্ষক ও নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে থেকে অনধিক পাঁচজনকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।

রাষ্ট্রপতি গত ৫ ফেব্রুয়ারি সার্চ কমিটি গঠন করেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হুসাইন ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।

কমিটি এ পর্যন্ত সাতটি বৈঠক করেছে। প্রথম বৈঠকের পর দেশে নিবন্ধিত ৩৯টি দলসহ ব্যক্তি ও পেশাজীবীদের আইন অনুযায়ী সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ করা হয়। যার ভিত্তিতে ৩২২ জনের (একাধিক নাম বাদ দিলে ৩১৫ জন) একটি তালিকা গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সার্চ কমিটি। এ ছাড়া বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৪৭ জন বিশিষ্টজনের সঙ্গেও চারটি মতবিনিময় সভা করেছে এই কমিটি।

নির্বাচন কমিশন গঠনে এটি তৃতীয় সার্চ কমিটি। তবে নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের পর গঠিত সার্চ কমিটি এটিই প্রথম। এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠনে ২০১২ ও ২০১৭ সালে সার্চ কমিটি হয়েছিল। দু'বারই রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে সার্চ কমিটি গঠন হয়। এবার নতুন আইনের অধীনে সার্চ কমিটি হলেও গতবারের কাঠামোকেই অনুসরণ করা হয়েছে। কারণ আইনের বিধানেও এই কাঠামো রয়েছে।