মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার জন্য গত বছরের মার্চে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন বেলাল হোসেন। তখন অপরিচিত একজন হাসপাতালটির চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে তার করোনা টেস্টের ফল পজিটিভ এসেছে বলে জানান। তিনি ১০ হাজার টাকায় সেই ফল নেগেটিভ করার প্রলোভন দেন বেলালকে। টাকা দিলেও পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে পজিটিভ ফলই পান। পরে হাসপাতালে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি হাসপাতালের কেউ নন।

এক মাস পর ওমানে যাওয়ার আগে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি ঘনিষ্ঠ বন্ধু সবুজকে জানান বেলাল। পরে সবুজের মাধ্যমে একটি চক্র গড়ে তুলে নিজেও একই ধরনের প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন। বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ ফল পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রটির ১৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত বুধবার রাজধানী এবং দেশের দুটি জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, করোনা পরীক্ষার জন্য সরকার নির্ধারিত হাসপাতালে যাওয়া বিদেশগামী যাত্রীদের ভুয়া পজিটিভ রিপোর্টের কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে আসছে কয়েকটি চক্র। বেশকিছু ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়ে র‌্যাব অনুসন্ধান শুরু করে। গত বুধবার প্রথম কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্য জসিম উদ্দিন ও সুলতান মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যে পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও রাজধানীর সায়েদাবাদ, রমনা ও মতিঝিল এলাকা থেকে বেলাল হোসেন, জসিম উদ্দিন, সুলতান মিয়া, আবুল হোসেন, আবদুল নুর, আলফাজ মিয়া, মো. শামিম, আহাম্মদ হোসেন, ইমরান উদ্দিন মিলন, সবুজ মিয়া, আব্দুর রশিদ, আব্দুল করিম চৌধুরী, আঙ্গুর মিয়া ও আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা, প্রতারণার কাজে ব্যবহূত ১২০টি মোবাইল সিমকার্ড, সিম অ্যাক্টিভেট করার একটি ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন, একটি ট্যাবসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, বেলাল দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া টাকার একটি অংশ তার কাছে পাঠানো হতো। তবে বেলাল ভাবতেন, তাকে টাকা কম দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে গত আগস্টে তিনি দেশে ফিরে আসেন। পরে আরেক বন্ধু জসিমকে নিয়ে তিনি প্রতারণায় নেমে পড়েন।