৭৯ শতাংশ সাংবাদিক মনে করেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্বাধীন সাংবাদিকতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। ৯৪ শতাংশ সাংবাদিক আইনটি সংস্কার অথবা রহিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ৬৫ শতাংশ মনে করেন, আইনটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে তথ্য ও মতামত প্রকাশ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য নেতিবাচক উপাদানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনমাফিক সংস্কার করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, ২৯ শতাংশ সাংবাদিক আইনটি সম্পূর্ণ বাতিল করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

গণমাধ্যম উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টির এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গত বছর পরিচালিত জরিপে ৪৬১ জন সাংবাদিক অংশ নেন। প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে 'সাংবাদিকতার নীতি-কাঠামো পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান, অধ্যাপক ড. মফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান কার্জন, সমষ্টির পরিচালক মীর মাসরুর জামান ও মীর সাহিদুল আলম।

সমীক্ষা প্রতিবেদনের সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করেন সমষ্টির গবেষণা পরিচালক রেজাউল হক। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ২৫০টি মামলার তথ্য সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়। এতে দেখা গেছে, ১৮ শতাংশ মামলায় সাইবার অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি ৮২ শতাংশ মামলায় অনলাইন মাধ্যম বা সংবাদপত্রে তথ্য বা মতামত প্রকাশের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজনীতিক বা রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের নেতারা ৪৬ শতাংশ মামলা করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ২৩ শতাংশ মামলায় বাদী হয়েছেন। ১৫৩টি মামলায় প্রধান আসামিসহ একাধিক আসামিকে মামলার পরপরই গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে সেগুলো বিশেষ বিবেচনায় দেখার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অন্য নাগরিকদের জন্য বৈষম্যমূলক মন্তব্য করে হাসানুল হক বলেন, অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কার ও অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বাতিল করা উচিত। প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট হালনাগাদ করে কার্যকর করারও আহ্বান জানান তিনি। সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমানও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের তাগিদ দেন।