ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে শনিবার শতবর্ষের মিলনমেলার আয়োজন করেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে শুরু হবে এই মিলনমেলা। ৯ হাজার ৩৩৭ জন অ্যালামনাই এতে অংশ নেবেন।
 

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। মিলনমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণতম শিক্ষার্থী মো. মতিউল ইসলাম। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ। এই মিলনমেলার প্রতিপাদ্য হলো- 'বাংলাদেশের পথযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই'।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত পথিকৃৎদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এক সময় বাংলায় শুধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। যেখানে ধনী ও উচ্চ শ্রেণির মানুষের সন্তানরা লেখাপড়া করতেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ ছিল না পূর্ব বাংলার গরিব মানুষের সন্তানদের। পরে সকল শ্রেণির মানুষের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো ব্যক্তিত্বের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এ. কে. আজাদ বলেন, শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল, সেখানে পৌঁছতে পারেনি। বিশ্বের ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০০ র‌্যাঙ্কিংয়ের ভেতরে আনার জন্য কাজ করছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। গবেষণার জন্য যে বাজেট প্রয়োজন, তা সরকার থেকে আসছে না। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সেখানে অনুদান দিতে চায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আনতে ১০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। ইতোমধ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে পুরো ফান্ড সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি শতবর্ষের মিলনমেলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তিনি বলেন, ৩০-৪০ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সব সুযোগ-সুবিধা ছিল সেগুলোও দিন দিন কমে আসছে। ষাটের দশকের পাঠাগার ও মেডিকেল সেন্টার এখনও আগের অবস্থায়ই রয়েছে। শিক্ষার্থী বাড়লেও সেগুলোর ধারণক্ষমতা এবং সক্ষমতা বাড়েনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী অর্থাভাবে যথাযথভাবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন তাদের জন্যও কাজ করছে। এ জন্য প্রতি বছর সাড়ে তিন কোটি থেকে চার কোটি টাকা বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।
এ. কে. আজাদ বলেন, 'এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক কিছু দিয়েছে অ্যালামনাইদের। এবার আসুন, আমরা অ্যালামনাইরা বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছু দেই। মাতৃসম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আরও সম্মান জানাই।' তিনি জানান, শতবর্ষের মিলনমেলায় অংশ নিতে ৯ হাজার ৩৩৭ জন অ্যালামনাই এবং তাদের স্ত্রীসহ ১১ হাজার ৩২৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।
অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার বলেন, মিলনমেলায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের জীবন সদস্যরা পরিবারসহ উপস্থিত থাকবেন। ২৫টি দেশের অ্যালামনাই এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হবেন। তিনি মিলনমেলার অনুষ্ঠানসূচি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার, সহসভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন।
অনুষ্ঠানসূচি :শতবর্ষের মিলনমেলার উদ্বোধন হবে সকাল ১০টায়। এরপর ১০টা ২৫ মিনিটে লাইভ অর্কেস্ট্রা, সংগীত এবং নৃত্য পরিবেশন করবেন শত শিল্পী। পৌনে ১১টায় পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো পাঠের পর ১০টা ৫৫ মিনিটে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মুনিরা খান উপস্থাপন করবেন শোক প্রস্তাব। ১১টায় শতবর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মোড়ক উন্মোচন ও 'শিল্পীর রং-তুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হবে। ১১টা ৫ মিনিটে স্বাগত বক্তব্য দেবেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার।
১১টা ১০ মিনিটে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার বক্তব্য দেবেন ১১টা ২০ মিনিটে। ১১টা ২৫ মিনিটে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেবেন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি রকীবউদ্দীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আশরাফুল হক মুকুল ১১টা ৫০ মিনিটে ধন্যবাদ জানাবেন। ১১টা ৫৫ মিনিটে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণতম শিক্ষার্থী মো. মতিউল ইসলাম। ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ সভাপতির বক্তব্য দেবেন দুপুর ১২টায়।
'বাংলাদেশের পথযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই'-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হবে ১২টা ২০ মিনিটে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম, ডাকসুর সাবেক জিএস মতিয়া চৌধুরী, লেখক-রাজনীতিবিদ ইনাম আহমদ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হামিদা আখতার বেগম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির, সাবেক এমপি শামসুজ্জামান দুদু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ।
১টা ২০ মিনিটে শুরু হবে মধ্যাহ্নভোজ। বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের শত গুণীজন সম্মাননা (মরণোত্তর) দেওয়া হবে। ৪টায় 'অ্যালমা মেটারের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার' অনুষ্ঠানের পর সাড়ে ৪টায় হবে বৈকালিক আপ্যায়ন। সাড়ে ৫টায় শুরু হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রবীন্দ্র, নজরুল ও হারানো দিনের গান পরিবেশন করবেন শিল্পী অদিতি মহসীন, প্রিয়াংকা গোপ ও হৈমন্তী রক্ষিত। ৭টায় শিল্পী চাঁদনি, সিনথিয়া, মিম চৌধুরী ও তাদের দল '৬০ ও '৭০ দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করবেন। শিল্পী সামিনা চৌধুরী এবং সন্দীপন আধুনিক ও পুরোনো দিনের গান পরিবেশন করবেন সোয়া ৭টায়। রাত পৌনে ৮টায় রায়বেশি নৃত্য পরিবেশন করবেন শিল্পী প্রেমা ও তার দল। রাত ৮টায় থাকবে শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের একক পরিবেশনা। বর্তমান প্রজন্মের শিল্পী নিশীতা বড়ূয়ার সংগীত পরিবেশনা থাকবে রাত সোয়া ৯টায়।