সপ্তাহে সাতদিন বাসে অর্ধেক ভাড়া তথা হাস পাস কার্যকর করার দাবি নিয়ে রোববার বনানীর সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা জানান, সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করলেও এখনো অনেক বাস শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেয় না।

এদিন ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের (নিসআ) কয়েকশ শিক্ষার্থী বিআরটিএ'র সদর কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে মহাখালীতে আসে। সেখান থেকে ঘুরে তারা বিআরটিএ'তে গিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের অবস্থান নেয়।

ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে ভাড়া বাড়ার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি সিদ্ধান্তে বাসে হাফ পাস চালু হয়। ছুটির দিন বাদে অন্যান্য দিন সকাল সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত অর্ধেক ভাড়ায় শিক্ষার্থীরা বাসে চড়তে পারে।

তবে সপ্তাহে সাতদিনই এবং রাত আটটার পরও হাফ পাস চান আন্দোলনরত শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, পড়াশোনার প্রয়োজনেই ছুটির দিনে এবং রাত আটটার পরও তাদের বাইরে বের হতে হয়।

এদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাহীদুল ইসলাম আপন, ইনজামুল হক ও তানজীদ সোহরাব বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারের সঙ্গে দেখা করেন। ইনজামুল হক সমকালকে বলেন, বিআরটিএ চেয়ারম্যান আগের মতোই আশ্বাস দিয়েছেন। আর কোনো আশ্বাস নয়, দাবি বাস্তবায়ন চায় শিক্ষার্থীরা।

সপ্তাহে সাতদিনই এবং রাত আটটার পরও হাফ পাস চান আন্দোলনরত শিক্ষার্থী। ছবি- সমকাল

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আবারও অবৈধ সিটিং সার্ভিস এবং ওয়েবিলের নামে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বাস মালিকরা। সরকার শিক্ষার্থীদের পরিবহন মালিক শ্রমিকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে দেওয়া স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেছে, প্রায়ই ভাড়া নিয়ে বাসে কথা কাটাকাটি থেকে শুরু করে মারামারি পর্যন্ত হচ্ছে। এমনকি কোনো ছাত্রকে একা পেলে পরিবহন শ্রমিকরা দুর্ব্যবহার করছে। পরবর্তীতে ছাত্ররাও পাল্টা পেশিশক্তি দেখাচ্ছে। যা কোনো সমাধান নয়।

সপ্তাহে সাতদিনই শিক্ষার্থীদের হাফ কার্যকরের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান জানান, শিক্ষার্থীদের দাবি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির অন্যতম দাবি হলো- সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সড়ক পরিবহন আইনানুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, প্রচলিত আইনানুযায়ী কল্যাণ তহবিল ট্রাস্ট গঠন করা হবে। তহবিল থেকে হতাহতরা আর্থিক সহযোগিতা পাবেন।