মাদক নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপের পরও তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ এখনও মাদকাসক্ত রয়ে যাওয়ায় আশঙ্কা প্রকাশ করে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, মাদক দেশের জন্য ‘বড় সমস্যা’।

তিনি বলেন, ‘যারা ফেনসিডিল খায়, তারা এখন অন্য মাদক সেবন করছে। বড় লোকের ছেলেদের কীসের টেনশন? তারা সকালে উঠে বাবার হোটেল খাচ্ছে। তারা ফ্যাশনের জন্য মাদকসেবন করেন।’ 

মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আগামী প্রজন্মকে মাদকমুক্ত গড়ার জন্য প্রত্যেকের অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে প্রস্তুত করে যেতে না পারলে এই দেশ সোমালিয়া হয়ে যাবে।’ 

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের মোটেল সৈকতে স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আয়োজয়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী। 

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ নয়, প্রতিবেশী দেশ উৎপাদন করা মাদক আমাদের দেশে প্রবেশ করে। ইয়াবার পর এখন আইস এলএসডি, ডিওবি নানা ধরনের মাদক এখন মাথাব্যথার কারণ। মাদকের কারবার ও সেবন বন্ধ করতে না পারলে আগামী কয়েক বছর পর আমরা একটা অক্ষম জনগোষ্ঠী পাব। তাই মাদক বন্ধে কোনো বিকল্প নেই।’

অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী দ্রব্যমূল্য কমিয়ে সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন। 

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আগামী তিন মাস বাজারে যুদ্ধের প্রভাব থাকতে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিজিবি ডেপুটি রিজিয়ন কমান্ডার কর্নেল রাশেদ আজগর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব, সিটি করপোরেশন কোস্টগার্ড, মাদক দ্রব্য নিয়নইধদফতর, কারা বিভাগ, শিক্ষাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।