সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন শেষ হওয়ার তিন দিন পরও ভোটের ফলাফল ঘোষণা হয়নি। সম্পাদক পদে একজন প্রার্থীর ভোট পুনর্গণনার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শেষ মুহূর্তে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত হয়ে যায়। এদিকে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে নির্বাচন পরিচালনায় গঠিত উপকমিটির প্রধান (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এওয়াই মশিউজ্জামান তার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মিন্টু কুমার মণ্ডল শনিবার রাতে সমকালকে বলেন, শনিবার ভোট পুনর্গণনার কথা থাকলেও কমিশনের প্রধান আসেননি। ফলে এখনও গণনা হয়নি। রোববার সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের জানাজার পর বিষয়টি সমাধান করতে বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলে জানান তিনি। বারে সম্পাদক পদে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইজীবী পরিষদ।

ভোটে যারা এগিয়ে

নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শুরু হয় মঙ্গলবার। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে ভোট গণনা শেষ হয়। এতে দেখা যায়, সভাপতি প্রার্থী মোমতাজ উদ্দিন ফকিরসহ ৬টি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল এবং সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ৮টি পদে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল বিজয়ের পথে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার প্রস্তুতি গ্রহণ করলে সম্পাদক পদে ভোট পুনরায় গণনার দাবি তোলেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। তারা সম্পাদক পদে ভোট কারচুপি ও বাতিল হওয়া ভোট কাজলের পক্ষে গণনা করার অভিযোগে আনেন। নির্বাচন কমিশনের প্রধান মশিউজ্জামান অভিযোগ নাকচ করে ফলাফল ঘোষণা করতে অনড় থাকলে মিছিল, স্লোগান, হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ব্যাপক হৈচৈ শুরু করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সম্পাদক প্রার্থী আব্দুন নুর দুলাল লিখিতভাবে ভোট পুনরায় গণনার আবেদন করেন। অন্যথায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগের দাবি তোলেন তারা। তার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে মশিউজ্জামান সম্পাদক পদে ভোট পুনরায় গণনার আবেদন নেন ও ভোটের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করেন। 

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলে দুই সম্পাদক প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোট পুনরায় গণনা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু শুক্রবার মশিউজ্জামান সুপ্রিম কোর্ট বারে আসেননি। এ কারণে ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গত ১৫ ও ১৬ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ৫ হাজার ৯৮২ জন আইনজীবী ভোট প্রদান করেন।

বিষয় : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এওয়াই মশিউজ্জামান

মন্তব্য করুন