রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইউক্রেনীয়দের সংগ্রামকে ব্রিটেনে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এক বক্তৃতায় জনসন বলেন, ইউক্রেনীয়দের মতো ব্রিটিশদেরও 'স্বাধীনতা বেছে নেওয়ার' ইচ্ছা ছিল। এ ছাড়া ইইউ ত্যাগের জন্য ২০১৬ সালের ভোটকে 'সাম্প্রতিক উদাহরণ' হিসেবে উল্লেখ করেন জনসন।

শনিবার ব্ল্যাকপুলে কনজারভেটিভ পার্টির বসন্ত সম্মেলনের বক্তৃতায় ইউক্রেনীয়দের লড়াইকে ব্রেক্সিটের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। তার এমন বক্তব্য যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ উভয় দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে গিয়ে নিজেই বিপদে পড়েছেন জনসন। খবর বিবিসির।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি ডোনাল্ড টাস্ক জনসনের এ মন্তব্যকে আপত্তিকর বলেছেন। কনজারভেটিভ পিয়ার লর্ড বারওয়েল বলেন, ভোট দেওয়ার সঙ্গে যুদ্ধের তুলনা হতে পারে না। যুদ্ধের সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি বলেন, এটি ইউক্রেনীয়দের জন্য অপমানজনক।

এর আগে সানডে টাইমসের সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনসন ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা করার জন্য চীনকে জোরালোভাবে আহ্বান জানান। বেইজিং তার নিরপেক্ষ অবস্থান সম্পর্কে 'দ্বিতীয়বারের মতো চিন্তা' করুক এমন পরামর্শ দেন তিনি। জনসন বলেন, আমি জানি স্বাধীনতা চাওয়া প্রতিটি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি, যেমনটা এ দেশের মানুষের রয়েছে, ইউক্রেনের জনগণেরও রয়েছে। এ নিয়ে আমি কয়েকটি উদাহরণ দিতে পারি। এর আগে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয় বরিস জনসন সরকার। ফ্রান্সের ক্যালে থেকে ব্রিটেনে প্রবেশ করার সময় প্রায় ৩০০ ইউক্রেনীয়কে ফিরিয়ে দেয় দেশটি।

বিষয়টি নিয়ে সে সময় ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন বরিস জনসন। তিনি জানান, ব্রিটেন এমনিতে খুবই আনরিক দেশ। তবে কারা এই সুযোগে ব্রিটেনে প্রবেশ করতে চাইছে, তা অবশ্যই যাচাই করে দেখার রয়েছে।