কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুলসহ ৩ জনকে হত্যার দায়ে ৩ জনকে আমৃত্যু ও ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম অধিকাংশ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণা শেষে পুলিশের পাহারায় আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, দৌলতপুর উপজেলার শালিমপুর এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে ওয়াসিম রেজা (পলাতক), ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার কাটদাহ গ্রামের আলী জোয়ার্দ্দারের ছেলে মানিক জোয়ার্দ্দার (পলাতক), দৌলতপুর উপজেলার শালিমপুর গ্রামের মৃত নুরু বিশ্বাসের ছেলে হোসেল রানা। 

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মিরপুর উপজেলার বালিদাপাড়া মশান গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে ইদ্রিস ওরফে মোটা জসিম (পলাতক), খন্দকার রবিউল ইসলামের ছেলে খন্দকার তৈমুল ইসলাম বিপুল (পলাতক), দৌলতপুর উপজেলার সালিমপুর গ্রামের মৃত নুর বিশ্বসের ছেলে ফারুক আহমেদ (সাবেক চেয়ারম্যান), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মতিমিয়া রেলগেট চৌড়হাস এলাকার খন্দকার মোছাদ্দেক হোসেন মন্টুর ছেলে উল্লাস খন্দকার, উদিবাড়ী আমিরুল ইসলামের ছেলে মনির (পলাতক), পূর্ব মজমপুরের মৃত আব্দুল খালেক চৌধুরীর ছেলে বিপুল চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলার পচা ভিটা গ্রামের মৃত মোজাহার মোল্লার ছেলে আব্দুল মান্নান মোল্লা।

রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ঘোষণা করেন বিচারক। অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেন তিনি। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে আরও ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল ঢাকা মহানগরের মিরপুর অ্যাগ্রিকালচারাল ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং স্কুলের মাকেটিং ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এসময় সুমি নামে এক মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। 

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসামিরা ২০০৯ সালে ২৩ অক্টোবর বিকালে জাহাঙ্গীরকে অপহরণ করে দৌলতপুর উপজেলার শালিমপুর গ্রামে আটকে রাখে। পরে জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। 

মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পর ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে আসামিরা জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুলকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ চরশালিমপুর হিসনা নদীর পাড়ে ফারুক চেয়ারম্যানের জমিতে পুঁতে রাখে। 

এ ঘটনায় ২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর দৌলতপুর থানায় জাহাঙ্গীর হোসন মুকুলের বড় ভাই ইলিয়াচ কবির বকুল বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলা তদন্তকালে ঘটনাস্থল থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল ও শালিমপুর কবরস্থান থেকে আরও ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। তাদেরকে একইভাবে হত্যা করে লাশ গুম করেছিল আসামিরা।   

তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২১ সালের ৩১ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায়  দেন। দুই আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের খালাস দেন আদালত।

আসামিদের বিরুদ্ধে আরও দুটি হত্যা মামলা আছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।