কার্গো জাহাজ এমভি রূপসী-৯ এর সঙ্গে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমএল আফসার উদ্দিনের চালকদের ‘অসম প্রতিযোগিতার’ কারণেই নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ শামীম বেপারী জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজের কাছে ওই প্রতিবেদন জমা দেন।

মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, ‘প্রতিবেদন পেয়েছি। এতে লঞ্চ ডুবির জন্য কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, এদের মধ্যে (কার্গো চালক ও লঞ্চ চালক) চালানোর প্রতিযোগিতা। ওই দিনের ঘটনার জন্য চালানোর প্রতিযোগিতাই আমার কাছে প্রধান কারণ মনে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দুইজনই যখন যাচ্ছে তখন কে আগে নির্মিতব্য নাসিম ওসমান সেতুর নিচটা পার হবে তা নিয়ে দুটি নৌযান চালকের প্রতিযোগিতা ছিল। এখানে একটা বড় জাহাজ, আর অন্যটা ছোট লঞ্চ। এ দুইয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা।’ 

তদন্ত কমিটির প্রধান এডিএম শামীম বেপারী জানান, তারা তদন্ত প্রতিবেদনে নৌ দুর্ঘটনা রোধে বেশকয়েকটি সুপারিশও করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট লঞ্চের পরিবর্তে যেন বড় নৌযান যেন এ রুটে নামানো হয়। যেহেতু এগুলো সামান্য ধাক্কা লাগলে ডুবে যায়। বিভিন্ন সুপারিশ যুক্ত করে আমরা প্রতিবেদনটি দাখিল করেছি।’

গত রোববার দুপুর ২টায় সদর উপজেলার সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ‘এমভি রূসপী-৯’ কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ‘এমএল আফসার উদ্দিন’ লঞ্চ ডুবে যায়। 

এ ঘটনায় শিশু, নারী সহ ১০জনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। 

এ ঘটনায় পরদিন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামীম বেপারীকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।