ধর্মব্যবসায়ীরা ভাস্কর্যকে ধর্মের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ভাস্কর্য নিয়ে তারা মিথ্যাচার করেছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে সপ্তাহব্যাপী ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক বিশেষ ভাস্কর্য প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ধর্মব্যবসায়ীরা মনে করেন, ভাস্কর্য আমাদের ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা ঐতিহ্যের সঙ্গে খাপ খায় না। ওই মূর্খরা জানে না মুসলিম মেজরিটি দেশেও কিন্তু ভাস্কর্য রয়েছে। ভাস্কর্য কোথায় নাই। তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইরানের মতো মুসলিম রাষ্ট্রেও ভাস্কর্য রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরাই সেই পাপিষ্ঠ, যারা একাত্তরে আমাদের মা-বোনদের গনীমতের মাল বলেছিল। বলেছিল ধর্ষণ করা জায়েজ। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের মা-বোনদের উপর পাশবিক নির্যাতনকে এরা সমর্থন করেছিল। এরাই আজ ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা ভাস্কর্যের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমরা দেশের সব বিভাগে ভাস্কর্য প্রদর্শনীর পরিকল্পনা নিয়েছি। এটা বছরব্যাপী চলবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.  মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারপার্সন নাসিমা হক মিতু।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এই ভাস্কর্য প্রদর্শনী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সমুচিত জবাব দেওয়ার একটি শক্তিশালী উপায়। সৃজনশীল কাজের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর মাধ্যমে উগ্রতা ও সাম্প্রদায়িকতার সমুচিত জবাব দেওয়া সম্ভব।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সব ভাস্কর্যের অনুলিপি তৈরি করে জাদুঘরে রাখার পরামর্শ দিয়ে উপাচার্য বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভাস্কর্যগুলো রয়েছে সেগুলোর একটি করে রেপ্লিকা তৈরি করে জাদুঘরে সংরক্ষণ করা জরুরি। এ ব্যাপারে সরকার সহযোগিতা করলে বিশ্ববিদ্যালয় সেটির উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিল্পী হামিদুজ্জামান খানকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননা হিসেবে তাকে ক্রেস্ট, সনদ ও এক লক্ষ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

এছাড়া প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া তিনটি শিল্পকর্মকে পুরষ্কৃত করা হয়। ‘জাতির জনক’ শীর্ষক আবক্ষ ভাস্কর্যের জন্য ইসমে আজম, পল্লব দত্ত ও শেখ সাহাবুদ্দিনকে যৌথভাবে প্রথম পুরস্কার দেওয়া হয়।

‘রক্তবণ’ শীর্ষক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্থাপনা শিল্পের জন্য অমিয় শংকর দাসকে দ্বিতীয় পুরস্কার এবং ‘অভ্যন্তরীণ অর্জন’ শীর্ষক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্যের জন্য রূপম রায়কে তৃতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে তাদের প্রত্যেককে ক্রেস্ট, সনদ ও পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।