শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় নিলয় কান্তি দাস নামে বিএনসিসির এক সদস্যের ক্যাডেটশিপ বাতিলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনসিসি শাবি শাখার ক্যাপ্টেন অধ্যাপক ড. আশ্রাফুল করিমের বিরুদ্ধে সংগঠনটির ২৬ সদস্য রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে ক্যাপ্টেন আশ্রাফুল করিম বলেন, 'নিলয়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুলাই। সে আবেদন করলেও তার মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। আমার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ করা হয়েছে, জানি না। এতে অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে।'

এদিকে রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল ইসলাম বলেন, 'এটা ছাত্র-শিক্ষকের বিষয়। ঘটনা মীমাংসার জন্য আমরা আরেক শিক্ষকের শরণাপন্ন হয়েছি। তিনি এই ভুল বোঝাবুঝির একটা সমাধান দেবেন।'

নিলয় বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, 'বিএনসিসির ক্যাডেটরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের নিয়ম-কানুন ও বিধিনিষেধ মেনে সংগঠনটির কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আসছে। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে অরাজনৈতিক একটি আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব শিক্ষার্থী অংশ নেয়। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিএনসিসির ক্যাপ্টেন ড. আশ্রাফুল করিম আমার ক্যাডেটশিপ কেড়ে নেন। এ ছাড়াও যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, তাদের বিএনসিসি থেকে অব্যাহতি নিতে বলেছেন।'

নিলয় আরও বলেন, 'এভাবে ক্যাডেটশিপ বাতিল করা বিএনসিসির গঠনতন্ত্র ও নীতির সম্পূর্ণ বিরোধী। শুধু আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে ক্যাডেটদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ড. আশ্রাফুল এই কাজ করেছেন।'

জানা যায়, রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে ২৬ শিক্ষার্থী সম্মতি জানিয়ে সই করেছেন। নিলয় কান্তি দাস বলেন, 'এ ঘটনায় ব্যবস্থা না নিলে আমরা বিএনসিসি শাবি শাখার সব ক্যাডেট সম্মিলিতভাবে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'