বগুড়ায় ব্যতিক্রম উদ্যোগে তুলে ধরা হয়েছে জাতীয় পতাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বগুড়ার ধুনটে আলোকসজ্জার মাধ্যমে পুকুরের তলদেশে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিশালাকার লাল সবুজের পতাকা।

ধুনট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ১৫ দিন যাবত মজা পুকুর খনন করে কর্মযজ্ঞটি সম্পন্ন করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে 'জলতরঙ্গে বিজয় নিশান'।

শনিবার মহান স্বাধীনতা দিবসের দিন সন্ধ্যার পর সদর উপজেলা পরিষদের পার্শ্ববর্তী মুজিব চত্বর এলাকায় নির্মিত 'জলতরঙ্গে বিজয় নিশান' দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে।

জানা যায়, পুকুরের নিচে থাকা পানির একটু উপরে সুতার সঙ্গে বাতি বেধে আলোকসজ্জার মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এজন্য ব্যবহার করা হয়েছে ৯২ হাজার ৩৪০টি মরিচ বাতি। পতাকাটির দৈর্ঘ্য ১৬০ ফুট এবং প্রস্থ ৯৬ ফুট। এতে ব্যবহার করা হয়েছে সবুজ বাতি আর ৩২ ফুট বৃত্তে লাল বাতি। এছাড়া পুকুরের চারদিকে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

এসব চিত্রের মধ্যে রয়েছে- মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ফ্লাইওভার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এছাড়া পুকুরের একপাশে লেখা রয়েছে 'আই লাভ বঙ্গবন্ধু'। এক পাশে 'দ্য মাদার অব হিউম্যানিটি।' আরেক পাশে রয়েছে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের নৌকা। যে নৌকার এক পাশে বঙ্গবন্ধু'র ছবি, অন্যপাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।

'জলতরঙ্গে বিজয় নিশান' দেখতে আসা স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ জানান, তিনি কখনও কল্পনা করেননি ধুনটে এমন কিছু তিনি দেখতে পারবেন। তিনি খুব আনন্দিত।

কর্মযজ্ঞটি দেখতে আসা এই প্রজন্মের তরুণ মেহেদী হাসান জানান, মরিচ বাতি দিয়ে বানানো এত বড় জাতীয় পতাকা এর আগে তারা দেখেননি। পুকুরের তলদেশে ফুটে ওঠা লাল সবুজের পতাকাটি ইতোমধ্যেই সবার নজর কেড়েছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, জাতীয় পতাকা আমাদের অহংকারের প্রতীক। পতাকার জন্যই প্রাণ দিয়েছেন লাখো বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমরা চিন্তা করলাম যে, কীভাবে মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করতে ব্যতিক্রমী কিছু করা যায়। আমাদের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মুজিব চত্বরের পাশেই একটি মজা পুকুর ছিলো। আমি চিন্তা করলাম, মুজিব চত্বরকে কেন্দ্র করেই মজা পুকুরটাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়। এরপর পুকুরটাকে খনন করার পর পাড় ঠিক করা হয়। পরে তলদেশে মরিচ বাতি দিয়ে পতাকা করার পরিকল্পনা করা হয়। ১৫ দিন সময় লেগেছে কাজটি করতে।

উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. হাবিবর রহমান বলেন, আমি পুরোপুরি বিস্মিত। এই অনুভূতি ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা কঠিন। একটি পতাকার জন্য কত শত প্রাণ ঝরে গেছে। 'জলতরঙ্গে বিজয় নিশান'একটি ব্যাতিক্রম উদ্যোগ।