ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ হলে সম্প্রতি আসন বরাদ্দ দিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। বরাদ্দের পর প্রায় ছয় মাস পার হলেও সিটেগুলোতে উঠতে পারেনি অনেক আবাসিক ছাত্র। ফলে ছাত্রদের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে অবৈধভাবে দখলে থাকা সিটগুলো উদ্ধার করতে প্রক্টরিয়াল বডি ও হল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে। এ সময় সিটে উঠতে চাওয়া ছাত্রদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

অভিযানে লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, আবাসিক শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন, পার্থ সারথি লস্কর, সহকারী অধ্যাপক ইয়াকুব আলী, সহকারী প্রক্টর শাহেদ আহমেদ, সহকারী রেজিস্টার জিল্লুর রহমান, রবিউল ইসলামসহ প্রায় ১০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা অংশ নেন।

এতে অন্তত ১৫ টি কক্ষে অবৈধভাবে থাকা অনাবাসিক ছাত্রদের নেমে যেতে বলেন তারা। একই সঙ্গে নির্ধারিত কক্ষগুলোতে কর্মকর্তাদের তালা লাগিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আসন বরাদ্দ পাওয়া ছাত্রদের কক্ষগুলোতে সঙ্গে নিয়ে যান। পরে কয়েকজন ছাত্র সিটগুলোতে তাদের আসবাবপত্র রাখতে যান। কিন্তু প্রশাসন চলে যাওয়ার পরপরই তাদের সিটে উঠতে না দিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

প্রশাসনের বলার পর আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র এনামুল হক খান তার বরাদ্দকৃত ৪০৪ নম্বর রুমের সিটে আসবাবপত্র রেখে আসেন। ওই সিটে পূর্বে থেকে থাকা আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের মামুনুর রাশিদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় হলের ছাত্রলীগকর্মী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ইফতেখার আরিফ, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের হাসিবুলসহ প্রায় ১০ জন রুমে যান। এরপর সেখানে এনামুলসহ অন্যান্যদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন তারা। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের মাধ্যম ছাড়া হলে উঠতে পারবে না বলে হুমকি দেন তারা।

এবিষয়ে এনামুল হক খান বলেন, ‘হল প্রশাসন বলে যাওয়ার পর আমি রুমে আসবাবপত্র নিয়ে যাই। তখন কয়েকজন ছাত্র এসে ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে বলে যে- হল চালায় ছাত্রলীগ, আর প্রশাসন হলে সিট দেবে। প্রভোস্টের কথায় কেউ সিটে উঠতে পারবে না। সিটে উঠতে গেলে বড় ভাইদের মাধ্যমে উঠতে হবে।’

এ বিষয়ে ইফতেখার আরিফকে একাধিকবার কল দিলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে ছাত্রলীগ কর্মী হাসিব ঘটনা অস্বীকার করে কিছু জানেন না বলে কল কেটে দিয়ে মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।

এদিকে হলটির ১২২ নম্বর কক্ষে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মনির হোসেনকে মঙ্গলবার সকালে উঠতে বলে কর্তৃপক্ষ। ওই সিটে অবৈধভাবে থাকা মার্কেটিং বিভাগের মোরসালিনের সঙ্গে মনির কথা বলতে গেলে তিনি সিট ছাড়তে পারবেন না বলে জানান।

জানতে চাইলে মনির হোসেন বলেন, 'আমার সিটে যিনি আছেন তার ৪৩৯ নম্বর রুমে সিট হয়েছে। উনি ওই সিটে যেতে না পারলে, এই সিট ছাড়বেন না।’

মোরসালীন বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের ভাইদের মাধ্যমে ১ম বর্ষ থেকেই সিটে থাকি। এবার ৪৩৯ নম্বর রুমে আমার সিট হয়েছে।’

প্রভোস্ট অধ্যাপক ওবায়দুল হক বলেন, ‘হলে আবাসিক হয়েছেন এমন ছাত্রদের কেউ সিটে উঠতে কেউ যদি বাধা দেন, তবে আমাদের নিকট অভিযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’