স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্যখাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলাদা দল গঠনে গুরুত্বারোপ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। 

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টিম করা হলে ভাল হয়। মন্ত্রীসহ কর্তাব্যক্তিরা যদি তাদের পরামর্শ মতো কাজ করেন, তাহলে আমরা আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

এ দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সময়ে হেলথ সেক্রেটারি করা হয়েছিলো একজন চিকিৎসককে। ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল একজন শিক্ষাবিদকে দিয়ে। যার যে অভিজ্ঞতা আমরা যদি সেভাবে তাদেরকে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে প্রত্যেক সেক্টরেই আমরা উন্নত হতে পারব।’ 

করোনকালে চিকিৎসকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘করোনার সময়ে সাউথ এশিয়াতে বাংলাদেশ প্রথম এবং সারাবিশ্বে ২৬তম অবস্থান, এটি কিন্তু এমনিতেই হয়ে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় চিকিৎসকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।’ 

বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন। 

অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বাংলাদেশকে উন্নত পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখতে হবে। আমরা এই দেশকে মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। স জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদেরকে কাজ করতে হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে হবে। চলমান উন্নয়নে যাতে ব্যতয় না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।’

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন।  

অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর  ঠিকানা হল মানুষ ও বাঙালি। তিনি মানুষকে ভীষণ ভালবাসতেন। জনতার ভালবাসাই ছিল তার প্রধান সম্পদ। খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য তার দরদ ছিল অপরিসীম। তিনি বাঙালিদের প্রচণ্ড বিশ্বাস করতেন। তিনি কখনও বিশ্বাস করতেন না যে বাঙালিরা তাকে হত্যা করতে পারে।’

বিএসএমএমইউয়ের চিকিৎসা সেবার প্রশংসায় তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশেরই নয়, সারাবিশ্বের সেরা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে উন্নীত হয়েছে। আমি মনে করি, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে রোগমুক্তির আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।’

এই আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ডিন অধ্যাপক ডা. শিরিন তরফদার, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ডা. এ এইচএম জহুরুল হক সাচ্চু, ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ইশতিয়াক আহমেদ শামীম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান।