আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৩২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা সাজিয়েছে অর্থ বিভাগ। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার বাড়ছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। আর সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয় ধরা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ও আগামী অর্থবছরের নতুন বাজেট নিয়ে অর্থ বিভাগের তৈরি করা এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী ১৭ এপ্রিল ২০২১-২২ অর্থবছরের কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে অর্থ বিভাগ। সেখানে আগামী অর্থবছরের বাজেটের ব্যয়, রাজস্ব সংগ্রহ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), বাজেট ঘাটতি, ঘাটতি অর্থায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ পরিকল্পনাই চূড়ান্ত বাজেট নয়। অর্থ বিভাগের পরিকল্পনার পরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংযোজন-বিয়োজন হয়ে থাকে।

ইতোমধ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে যেসব আলোচনা ব্যবসায়ী সংগঠন ও গবেষণা সংস্থাগুলো করেছে সেখানে সম্প্রসারণমূলক বাজেট প্রণয়নের সুপারিশ এসেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রণোদনা প্যাকেজ অব্যাহত রাখা, প্রণোদনা বাড়ানো, নতুন ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়তি বরাদ্দ দরকার। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল, গ্যাস, শিল্পের কাঁচামালের দাম বিশ্ববাজারে বেড়েছে। ফলে সরকারকে ভর্তুকিও বাড়াতে হতে পারে। বাজেটে সে জন্যও বরাদ্দ রাখা দরকার।

অর্থ বিভাগও মনে করছে আগামী অর্থবছরের বাজেট সম্প্রসারণমূলক হওয়া উচিত। করোনার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্যই তা দরকার। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যসহ সামগ্রিক পণ্যবাজার ঊর্ধ্বমুখী। ফলে আগামী বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ব্যয়সহ সার্বিক সরকারি ব্যয় বাড়তে পারে।

সার্বিকভাবে রাজস্ব সংগ্রহে গতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী অর্থবছরেও এ অবস্থা বজায় থাকবে বলে আশা করছে সরকার। এ জন্য মোট রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। এই প্রথম দেশের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা চার লাখ কোটি টাকার বেশি ধরা হচ্ছে। তবে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আগামী অর্থবছরে সরকার অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী সরকারি ব্যয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে।

যদিও প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, বাজেট প্রকৃতপক্ষে সম্প্রসারণমূলক হচ্ছে না। কারণ চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে যে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা অর্থবছরের জিডিপির তুলনায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর আগামী অর্থবছরের বাজেটে যে বরাদ্দ পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা নতুন অর্থবছরের সম্ভাব্য জিডিপির ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে জিডিপির আকারের তুলনায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ছে না। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, সার, গ্যাসের দামের যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ;তাতে আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি বাবদ সরকারের ব্যয় বাড়বে। বাড়বে সামাজিক নিরাপত্তা ও বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয়। সংশোধিত বাজেটের তুলনায় যে ৯০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, তার বড় অংশই চলে যাবে এসব খাতে। ফলে বাড়তি বরাদ্দ থেকে উন্নয়ন ব্যয় কতটা করা যাবে, তা দেখার বিষয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এডিপির বাস্তবায়ন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এ সময়ে প্রকল্প সাহায্য ও সরকারের তহবিল থেকে ব্যয় দুটোই বেড়েছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ নতুনভাবে দেখা না দিলে এ বছর এডিপি বাস্তবায়নের হার গত দুই অর্থবছরের তুলনায় বাড়বে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বড় প্রকল্পের বাস্তবায়নে অগ্রগতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।