ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালে বাংলাদেশ সরকারের (অবিক্রয়যোগ্য) ওষুধ বিতরণের ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। 

মঙ্গলবার এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হলে শোরগোল পড়ে যায়। বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহিতার মুখে পড়ায় বুধবার ওই তিন সদস্যের কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। 

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলা প্রশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাঝির তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসন ও  জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের যৌথ তদন্ত কমিটি করা হয়। 

নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশংকর সারেঙ্গী বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, কলকাতার সরকারি স্টোর থেকেই ওই ওষুধগুলো এসেছে। তবে আসলে কী ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে কাঁথি হাসপাতালের সুপার রজত পালও দাবি করেন, ওই ওষুধগুলো স্থানীয়ভাবে ক্রয় করা হয়নি বা অবৈধভাবে কাঁথি হাসপাতালে পৌঁছায়নি। রাজ্য সরকারের নিয়মিত সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে জেলা হাসপাতালে এ ওষুধগুলোর চালান পাঠানো হয়েছে। 

বাংলাদেশি এ ওষুধগুলো সরাসরি যে কলকাতা স্টোর থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছে গেছে তার পর্যাপ্ত নথি সমকালের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারি। যার ইস্যু ভাউচার নম্বর ৬৫৮,২১/২২ । নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার উদ্দেশ্যে ৫/৬/২০২১ সালের ইস্যু করা ওই ভাউচারে সই করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ডেপুটি ডাইরেক্টর অব হেলথ। যাতে লেখা রয়েছে ডক্সিসাইক্লিন ১০০  নামের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধটি। 

দিব্যেন্দু অধিকারি বলেন, হাসপাতাল হয়ে জেলার বহু মানুষের হাতে এই ওষুধ পৌঁছে গেছে। ওষুধের প্যাকেটের গায়ে মেয়াদউত্তীর্ণের তারিখ দেওয়া না থাকায় এর থেকে রোগীদের কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হলে তার দায় কে নেবে সেই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে গোটা ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছে কলকাতার স্বাস্থ্য ভবন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হবে না জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে।

এই নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানান, ওই ওষুধগুলো গত বছর ৩ জুন রাজ্যকে পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ সংস্থা। ওই ওষুধগুলো বাংলাদেশ সরকারের বিদেশ মন্ত্রক এ দেশে পাঠিয়েছিল। রাজ্যের সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোর থেকে ওই ওষুধগুলো শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলাতেই নয় পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গত বছর ৫ জুন এবং ৭ জুন পাঠানো হয়েছিল।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ছাড়া কোনো জেলা থেকেই এমন অভিযোগ আসেনি বলেও জানান তিনি। 

যদিও প্যাকেটের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ না দেওয়ার বিষয়টির সম্পর্কে জবাব দিতে পারেননি অজয় চক্রবর্তী। 

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এলে ফোনে না জানিয়ে সংবাদ সম্বেলনের সুযোগ থাকবে আমার কাছে।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে বাংলাদেশের সরকারি ওষুধ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর বাংলাদেশের বিক্রয় অযোগ্য ওষুধ কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালে এলো তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।