অর্থপাচার মামলায় পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। এর পাশাপাশি তাকে খালাস দেওয়া ওই মামলার নথিও তলব করা হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেন।

আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশিদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

২০১৯ সালের ৯ জুন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে দায়মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন ডিআইজি মিজান। পরবর্তীতে বহুল আলোচিত ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ওই বছরের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে ডিআইজি মিজানসহ আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এরপর ২২ জুলাই এনামুল বাছিরকে গ্রেপ্তার করে দুদকের একটি দল। অপরদিকে দুর্নীতির মামলায় ডিআইজি মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এখনও কারাগারে। এরমধ্যে ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম।

রায়ে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় খন্দকার এনামুল বাছিরকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মিজানুর রহমানকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

তবে ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় করা মামলায় ডিআইজি মিজানকে তিন বছরের সাজা দেন আদালত। এ অবস্থায় গত ৭ এপ্রিল অর্থপাচার মামলায় ডিআইজি মিজানুর রহমানকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক।