বিস্তৃত সবুজ মাঠে প্রায় অর্ধশত ছোট ছোট দল প্রস্তুতি নিচ্ছে ইফতারির জন্য। এখানে শুধু ছেলে নয়, আছে মেয়েরাও। রোজা শুধু মুসলমানদের ইবাদাত হলেও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুরাও। সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। রমজানে ইফতারকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটারিয়া, টিএসসিসি, ডায়না চত্বর, ঝাল চত্বর, আমবাগান, বিভিন্ন হলের ছাদে ও সাদ্দাম হল সংলগ্ন ক্রিকেট মাঠে ইফতারির জন্য ভিড় করছে ইবিয়ানরা।

বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব জায়গায় শিক্ষার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। তবে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে ক্রিকেট মাঠে ইফতারের প্রস্তুতি। যে যার মতো বন্ধু-সহপাঠীদের নিয়ে পছন্দের জায়গায় ইফতারের আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সাধারণত প্রতি বছর রমজানে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকে কিন্তু এবার বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা চলার কারণে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।

বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের সিনিয়র-জুনিয়র মিলে আলাদা আলাদা জায়গায় গোল হয়ে বসে প্রস্তুতি নেয় ইফতারের। কেউ জিয়া মোড় থেকে খাবার কেনায় ব্যস্ত, কেউ পানি আনায়, কেউবা আবার সবুজ মাঠে কাগজ বিছিয়ে অন্যদের বসার ব্যবস্থা করছেন। জিয়া মোড়ের দু'পাশে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের ভাজা, ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, তরমুজসহ নানা রকমের কোমল পানীয়ের দোকান। এ ছাড়া লেবুর শরবত, বেলের শরবত ও অন্যান্য ঠান্ডা পানীয় শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে। ইফতারির কেনাকাটায় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ইবির জিয়া মোড়।

পুরো মাঠজুড়ে শিক্ষার্থীরা যখন একসঙ্গে ইফতার করে তখন দেখে মনে হয়, এক ঝলক ঠান্ডা বাতাস এসে শীতল পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে শুকনো মুখগুলোতে। ক্ষীয়মান প্রাণগুলোতে নব প্রাণের সঞ্চার হয়, মুহূর্তেই সতেজ হয়ে ওঠে যেন সবাই। এরপর মাঠের মধ্যেই জামাতে নামাজ আদায়ের দৃশ্য হৃদয়ে প্রশান্তি জাগায়। দীর্ঘ দুই বছর পর এমন স্বাদ নিতে পারল শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আল-মাসুদ বলেন, 'রমজানে বেশিরভাগ সময় ইফতার করা হয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। এই প্রথম ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করছি।

সারাদিন রোজা রাখার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলা মাঠে বসে ইফতার করার যে ভিন্ন রকম অনুভূতি তা বলে বোঝানো যাবে না।'
সাদ্দাম হোসেন হলের শিক্ষার্থী তুহিন বাবু বলেন, 'পড়াশোনার সুবাদে এর আগেও বেশ কয়েকটি রমজান বাড়ির বাইরে কাটিয়েছি। কিন্তু আজকের অনুভূতি ছিল একটু ব্যতিক্রম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই প্রথম বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারে অংশগ্রহণ করে অনেক ভালোলাগা কাজ করছিল।'