পাকিস্তানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল, বিদেশি রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি। পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর জনসংযোগ দপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার বলছেন, গত মাসে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) বৈঠকের পর জারি করা বিবৃতিতে 'ষড়যন্ত্র' শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি।

সামরিক বাহিনীর সদ্য সমাপ্ত ৭৯তম ফরমেশন কমান্ডারস কনফারেন্সের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর মহাপরিচালক ইফতিখার বাবর ইফতিখার। খবর দ্য ডনের।

কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিরোধী জোটের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এরপর থেকেই তিনি দাবি করে আসছিলেন, এ অনাস্থা প্রস্তাব বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ। একটি বিদেশি রাষ্ট্রের (যুক্তরাষ্ট্রের) ‘হুমকির চিঠির’ সঙ্গে তার উপর বিরোধী জোটের আনা আনাস্থা প্রস্তাবের যোগসূত্র রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলো এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এ নিয়ে সেনাবাহিনীর সর্বশেষ বক্তব্যে আরও চাপে পড়লেন অনাস্থা ভোটে সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

সেনা সদরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফরমেশন কমান্ডার কনফারেন্স নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অনাস্থা প্রস্তাবে পিছনে ইমরান খানের বিদেশি ষড়যন্ত্রের দাবির বিষয়ে সেনা নেতৃত্বের অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা।

এ বিষয়ে মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার বলেন, বৈঠকে সামরিক নেতৃত্বের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সেই বৈঠকের পর একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। আর তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে বৈঠকে কী কী সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সেখানে ‘ষড়যন্ত্র’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে ব্যবহৃত শব্দগুলো আপনাদের সামনে। এতে ষড়যন্ত্রের মতো কোনো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে? আমার মনে হয় না।

জেনারেল ইফতিখার আরো বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিলে এনএসসি সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ করা যেতে পারে। শুধু ষড়যন্ত্র নয়, অনেক কারণেই কূটনৈতিক নোট দেওয়া হতে পারে। এটি একটি কূটনৈতিক পদ্ধতি।

এদিকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআর মহাপরিচালকের দেওয়া বক্তব্য ও বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট করার প্রশংসা করেছে ইমরান খানকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসা দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো।