অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের নাক গলানো বাংলাদেশ সরকার আশা করে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তবে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্ট যাচাই-বাছাইয়ের পর এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানিয়েছেন শাহরিয়ার আলম।

চার মাস দেশে 'ক্রসফায়ার'-এর ঘটনা নেই। এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সম্ভবত অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের ডাবল অ্যাকশনের ভয়ে এ সময়ে সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে গেছে, এ কারণে ওই ঘটনা ঘটছে না।

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্ট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই রিপোর্টে এমন অনেক কিছু আছে, যা বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে যায় না। যেমন রিপোর্টে সমকামিতাকে অধিকার না দেওয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের দৃষ্টিকোন থেকে এটি অগ্রহণযোগ্য।

তিনি বলেন, এ রিপোর্টে এমন কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে যেগুলোর গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন আছে। যেমন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্টে যেখানে ২৭৫টি ঘটনার কথা বলা হয়েছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্টে ওই সংস্থাকেই উদ্ধৃত করে ৬০৬টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের তথ্যের গড়মিলের কারণেই এর গবেষণা ও তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ৮টি মৌলিক বিষয়ে অনুস্বাক্ষর করেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র মাত্র দু'টি মৌলিক বিষয়ে অনুস্বাক্ষর করেছে। তাহলে তারা কিভাবে বাংলাদেশের বিষয়ে রিপোর্ট দেয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

র‌্যাবের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, র‌্যাব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তাদের দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই নিরাপত্তা বিধানের জন্য তাদের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে সেটাকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে কেন? তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, নোয়াখালিতে বাবার বুকে থাকা এক শিশু সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হয়েছে। এখন যদি সে সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ সেখানে থাকতেন এবং তার হাতে যদি অস্ত্র থাকত, তাহলে তার দায়িত্ব হতো সেই সন্ত্রাসীর দিকে গুলি ছোঁড়া। তাহলে দায়িত্বপালনকে কি অপরাধ হিসেবে দেখা হবে? একটি ভাল প্রতিষ্ঠানকে এভাবে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা সরকার ভাল চোখে দেখতে পারে না, দেখবে না। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি কোনও রাষ্ট্রের নাক গলানো আশা করে না সরকার।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্টে বাংলাদেশের যেসব সংস্থার কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেসব সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এরপর সেই তথ্য যাছাই বাছাই করে এ রিপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন একটি যাত্রা শুরু হয়েছে। কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় মানবাধিকার রিপোর্ট নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব দেশের বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, বেশিরভাগ দেশই 'ইগনোর' করেছে। বেশিরভাগ দেশের সাংবাদিকদের এ রিপোর্ট নিয়ে আগ্রহ নেই। কেন আগ্রহ নেই, সেটিও গবেষণার বিষয় হতে পারে।