বৈষম্যমূলক আচরণকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। অন্যথায় দেশ থেকে বৈষম্য দূর হবে না। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক ওয়েবিনারে রোববার বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং আইনপ্রণেতারা এ মন্তব্য করেছেন।

তারা বলেছেন, প্রস্তাবিত বৈষম্যবিরোধী আইনে বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ফৌজদারি প্রকারের কোনো বিধান রাখা হয়নি, যা আইনের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে। কারণ, বৈষম্যের শিকার ব্যক্তির প্রতিকার প্রাপ্তির প্রক্রিয়া এমনিতেই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধান শহীদুজ্জামান সরকার অনুষ্ঠানের সুপারিশমালা সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে পাঠাতে বলেন।

আলোচনায় এসডিজি প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আইন তখনই কার্যকর হয়, যখন রাজনৈতিক ইচ্ছা দৃশ্যমান হয়, দক্ষ প্রশাসন থাকে এবং নাগরিকদের পক্ষ থেকে সক্রিয় মনিটরিং করা হয়। তিনি বলেন, আইনে বৈষম্যের তালিকাটি আরও প্রসারিত ও সামগ্রিক করতে হবে।

চাকমা সার্কেলের চিফ রাজা দেবাশীষ বলেন, আইনটিতে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। আন্তর্জাতিক শ্রম আইন কনভেনশনের ১০৭ ও ১১১ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। কারণ, এখানে আদিবাসীদের অধিকারের প্রসঙ্গ রয়েছে।

সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি এমপি বলেন, এই খসড়া আইনটি অপেশাদার বলে মনে হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় নেই। এটি একটি কাঠামোগত ত্রুটি। ফলে বিচারের জন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে ছুটে বেড়াতে হবে।

আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রংও এ ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী মনিটরিং কমিটি গঠনের কথা বলেন। নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী প্রধান জাকির হোসেন বলেন, প্রথম খসড়া আইনটিতে 'বৈষম্য বিলোপ বা নিরসন' কথাটি ছিল। এখন বলা হচ্ছে 'বৈষম্যবিরোধী আইন'; এই সংজ্ঞাটি স্পষ্ট হওয়া দরকার।

যৌনকর্মী নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের শিশুরা মূলধারার স্কুলে পড়ার সুযোগ পায় না মায়ের পেশার কারণে। আইন প্রণয়নবিষয়ক কমিটিতে যৌনকর্মীদের প্রতিনিধিত্ব নেই। একই অভিযোগ এসেছে হিজড়া, তৃতীয় লিঙ্গ বা ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটির পক্ষ থেকে। ২০২০ সালে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এখনও কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।

বেসরকারি সংস্থা ব্লাস্টের ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি ইত্যাদি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নানা বৈষম্যের শিকার হয়। বৈষম্যের সংজ্ঞাকে আরও ব্যাপকভাবে দেখতে হবে।

রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মেঘনাগুহ ঠাকুরতাও এ আইনের পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

দলিত নেতা মিলন বিশ্বাস বলেন, কোন কোন কারণে কোন শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানানো যাবে, তা সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। নয়তো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ কখনোই শিক্ষায় সমান সুযোগ পাবে না।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, আইনের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষ যেন বিচার পায়, সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।