ভ্রমণ ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাতগামীদের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের হয়রানি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ ছাড়া প্রবাসী কর্মীদের সহজে ই-পাসপোর্ট পাওয়া নিশ্চিত করতে বলেছে কমিটি। রোববার সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, আয়েশা ফেরদাউস, পংকজ দেবনাথ এবং সাদেক খান।

বৈঠক শেষে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ভিজিট ভিসায় আরব আমিরাতে যারা যাচ্ছেন, তাদের নানা হয়রানির কথা গণমাধ্যমে আসছে। কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, হয়রানি যাতে না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। যাদের ভিজিট ভিসা আছে, তাদের ভিসা বৈধ হলে এবং সরকারের পক্ষ থেকে আপত্তি না থাকলে তাদের আটকাবে কেন? এটা বন্ধ করতে হবে।

বৈঠকে প্রবাসী কর্মীদের ই-পাসপোর্ট পাওয়া সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ই-পাসপোর্টের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, বিদ্যমান পাসপোর্টে অনেক সময় নাম, ঠিকানা ভুল থাকে। ই-পাসপোর্ট নেওয়ার সময় সেটা ঠিক করতে অনেক ভোগান্তি হয়। এখানে-ওখানে যেতে হয়। এনআইডিতে ত্রুটি থাকলে সেটা ঠিক করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে অনেকেই খুব বেশি শিক্ষিত নন। তাদের কিছু ভুল হতে পারে। ই-পাসপোর্ট করার সময় তারা ঝামেলায় পড়েন। পাসপোর্ট দিতে সময় লেগে যায়। এই প্রক্রিয়াটা সহজ করতে বলা হয়েছে। বৈঠকে প্রবাসী কর্মীদের জন্য ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা চালু করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, তাদের লাইফ ইন্স্যুরেন্স করা থাকলে মারা যাওয়ার পর টাকা পাবেন। দুর্ঘটনায় পড়ে অঙ্গহানি হলে সুবিধা পাবেন। এমন বিষয় রাখার জন্য মন্ত্রণালয়কে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। প্রবাসী কর্মীদের জীবন আরও সুরক্ষিত করতে হবে।

বৈঠকে প্রবাসগামী কর্মীদের বিদেশ যাত্রার খরচ কমাতে বিমান ভাড়া কমানোর জন্য বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে আগেও বলা হয়েছিল প্রবাসী কর্মীদের ১০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে। বিমান পাঁচ হাজার টাকা কমাবে বলেছে। কমিটির পক্ষ থেকে স্মার্টকার্ডধারীদের ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।