৯ বছর আগে রানা প্লাজা ধসে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে দিনকে দিন। চিকিৎসা নেওয়ার পরও দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্তদের অঙ্গ যেমন- কোমর, মাথা, হাত-পা এবং পিঠে ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যা বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন এইডের এক জরিপে আহতদের ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশের শারীরিক অবস্থার অবনতির তথ্য উঠেছে। গত বছরের একই সময়ের পরিচালিত এ ধরনের জরিপে এ হার ছিল মাত্র ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ একবছরে  শারীরিক অবনতির শিকার শ্রমিকের সংখ্যা ৪ গুণ বেড়েছে। সোমবার জরিপের এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ২০০ শ্রমিকের মধ্যে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এ মাসের প্রথম সপ্তায় শ্রমিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

জরিপের তথ্য বলছে, আহত শ্রমিকদের ৩৩ শতাংশের অবস্থা প্রায় স্থিতিশীল এবং প্রায় ১১১ শতাংশের অবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। শারিরীক সমস্যার সঙ্গে মানসিক সমস্যা বৃদ্ধির তথ্যও উঠে এসেছে জরিপে। এবারের জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৪৯ শতাংশ শ্রমিক কোনো না কোনো মানসিক ট্রমায় আক্রান্ত। গত বছরের এ হার ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেওয়া ৩১ শতাংশ বলেছেন, তাদের মানসিক অবস্থা প্রায় স্থিতিশীল। সম্পূর্ণ স্থিতিশীলতার কথা জানিয়েছেন প্রায় ২১ শতাংশ শ্রমিক।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাজধানীর অদূরে সাভারে রানা প্লাজা নামে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে। এতে চাপা পড়ে ভবনের পাঁচ পোশাক কারখানার এক হাজার ১৩৮ শ্রমিক প্রাণ হারান। এছাড়া আহত হন আড়াই হাজার শ্রমিক।

এ দুর্ঘটনাকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে মনে করা হয়। ওই দুর্ঘটনার পর নিরাপদ কর্মপরিবেশ না থাকার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ সুবিধা (জিএসপি) বাতিল করা হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করা হয়নি।