ফেসবুকসহ অনলাইনের নানা মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে চকচকে শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিসসহ নানা ধরনের কাপড় দেখানো হত। তা পছন্দ করে টাকা পাঠানোর পর ক্রেতার কাছে পাঠানো হত একই ধরনের পুরনো ও ছেঁড়া কাপড়। এরপর ওই ফেসবুক পেজ বন্ধ করে নতুন আরেক পেজ খুলে আবার চালানো হত একই ধরনের প্রতারণা। এভাবে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ ই-কমার্সের এই প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য বেরিয়ে আসে। গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন, মো. বাপ্পি হাসান, আরিফুল ওরফে হারিসুল, সোহাগ হোসেন, বিপ্লব শেখ ও নুর মোহাম্মদ। গত রোববার ডিবির লালবাগ বিভাগ রাজধানীর পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যবহার অযোগ্য ও অতিনিম্ন মানের পুরনো ছেঁড়া শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি পিসসহ বিভিন্ন পণ্য, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ২১টি অনলাইন শপিং পেজ জব্দ করা হয়েছে।

ওই পাঁচজনকে উদ্ধৃত করে ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, এসএ পরিবহনের বুকিংম্যান ও লেবারদের মাধ্যমে প্রতিটি বুকিংয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এসব ছেঁড়া পণ্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হত।

সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান সংস্থাটির কর্মকর্তারা। সেখানে ডিবির লালবাগ বিভাগের ডিসি মো. রাজীব আল মাসুদ বলেন, করোনাকালের কারণে অনেকটাই অনলাইন শপিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে মানুষ। ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই মার্কেটে গিয়ে ঝামেলা এড়াতে অনলাইনে কেনাকাটা করছেন। এ সুযোগে কিছু প্রতারক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নানা অনলাইন মাধ্যমে কমমূল্যে আকর্ষণীয় ড্রেসের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ তাদের বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে পণ্যের টাকা পরিশোধ ও অর্ডার করে প্রতারিত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার চক্রটি ফেসবুকে পেজ খুলে উন্নতমানের পণ্যের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিচ্ছিল। তা দেখে কেউ অর্ডার করলে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে পণ্য পাঠিয়ে দেওয়া হত। কিন্তু ক্রেতা বা ভোক্তা যখন পার্সেলটি বাসায় নিয়ে দেখেন, তখন তিনি হতভম্ব হয়ে যান। কারণ সেই পার্সেলে থাকে নিম্নমানের ব্যবহার অযোগ্য ও নষ্ট পণ্য। এরপর গ্রাহকরা ফোনে অভিযোগ জানালেও চক্রটি সময়ক্ষেপণ করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে নম্বরটি ব্লক করে দেয়।

ডিসি রাজীব বলেন, এই চক্রটি এভাবে প্রতারণা করে প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।

ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিবির লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী কমিশনার মধুসূদন দাস সমকালকে বলেন, প্রতারিত গ্রাহকরা ফেসবুক পেজে অভিযোগ জানালে এবং বাজে মন্তব্য করলে চক্রটি তাদের পেজ বন্ধ করে নতুন পেজ খুলে আবার প্রতারণা করে আসছিল। তারা কখনও ‘জেরিন ফ্যাশন’ কখনও ‘অনলাইন ফ্যাশন বিডি’সহ নানা বাহারি নাম ব্যবহার করে পেজ খুলে।

তিনি বলেন, এই প্রতারণায় অতিরিক্ত টাকা পেয়ে পার্সেলের কাজটি করতেন এসএ পরিবহনের কয়েক কর্মচারী। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে।