ঈদের কেনাকাটা শেষে মানুষ যাতে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারেন সেজন্য ছিনতাইকারী, মলমপার্টি. অজ্ঞানপার্টি ও টানাপার্টির অপতৎপরতা রোধ করতে পুলিশের স্পেশাল টিম গঠনের নির্দেশনা এসেছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। চলমান রমজান আর ঈদ সামনে রেখে অপরাধ প্রতিরোধে মাঠ পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালনেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা থেকে রাজধানীর ৫০ থানা, ক্রাইম বিভাগ ও গোয়েন্দা বিভাগকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে যানজট কমাতে ট্রাফিক বিভাগকে আশপাশের জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের কথাও বলা হয়েছে ওই সভায়।

সোমবার ডিএমপি সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনাররা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, ৫০ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ১৫ রোজা শেষ হয়ে গেছে। এখন মার্কেটগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকবে। এ সময় মলমপার্টি ও অজ্ঞানপার্টি বা টানাপার্টির অপতৎপরতা বেড়ে যায়। এ জন্য থানার টহল পার্টিকে আরও সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজনে স্পেশাল টিম করে এদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

শুধু পাহারা দিয়ে অপরাধ দমন করা যায় না উল্লেখ করে তিনি অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে অপরাধ প্রতিরোধেরও নির্দেশ দেন অধস্তনদের।

ঈদের সময় নগরবাসীর অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যান জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, এতে বাসা-বাড়ি ফাঁকা থাকে। ওই সময় অপরাধ বন্ধে বাসা-বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজনে ঢাকা ছাড়ার সময় দামি স্বর্ণালঙ্কার আত্মীয়-স্বজনের কাছে রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যানজটের চাপ বেড়ে যায়। এ জন্য প্রয়োজনে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রবেশমুখগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় গত মার্চে দায়িত্ব পালনে সফলতার জন্য ক্রাইম বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ ও ট্রাফিক বিভাগকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন তদন্ত কর্মকর্তারাও পুরস্কার পান। মার্চে ক্রাইম বিভাগ ক্যাটাগরিতে তেজগাঁও বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ ক্যাটাগরিতে গুলশান বিভাগ ও ট্রাফিক বিভাগ ক্যাটাগরিতে ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগ শ্রেষ্ঠ বিভাগ হিসেবে পুরস্কার পায়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ১০টি বিভাগসহ ৫০ জন অফিসার এবং ফোর্সকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।