জাটকা নিধন বন্ধে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদীতে নির্বিচারে জাটকা শিকার করা হচ্ছে। আবার বাজারে এসব জাটকা কেজি হিসেবে বিক্রিও হচ্ছে। এক কেজিতে ৫০-৬০ পিস মাছ পাওয়া যায়। প্রতিদিন শত শত মণ ২-৩ ইঞ্চি সাইজের জাটকা পাইকারি বেচাকেনা হয়। খুচরা বিক্রেতারা প্রকাশ্যে বাজার এবং অলিগলিতে ফেরি করে 'চাপিলা' নামে এসব মাছ বিক্রি করে। এ ছাড়া প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের নদনদীতে নিধন করা শত শত মণ কথিত 'চাপিলা' নৌ ও সড়কপথে সারাদেশে বাজারজাত হচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের আইনে ১০ ইঞ্চির কম আকারের ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় এবং পরিবহন নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীকে সর্বোচ্চ ১ বছরের জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় মৎস্য অধিদপ্তর আইনটি কার্যকর করবে। তবে সব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২-৩ ইঞ্চি সাইজের জাটকা নিধন, পরিবহন এবং ক্রয়-বিক্রয় দক্ষিণাঞ্চলে ওপেন সিক্রেট বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে কথিত চাপিলা ক্রয়-বিক্রয়ের সবচেয়ে বড় মোকাম বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকাম, সদর উপজেলার তালতলী, বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ও বাদামতলী লঞ্চঘাট। বরিশালের হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনায় নিধন করা ইলিশের বাচ্চা বরিশালের মোকামে এবং ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর পাড়, গলাচিপার পানপট্টি লঞ্চঘাট ও বাদামতলী লঞ্চঘাটে পাইকারি বিক্রি হয়। মেঘনার ভোলার ইলিশা পয়েন্ট থেকে শুরু করে বরিশালে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে চাঁদপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ মেঘনা এবং মেঘনার শাখা তেঁতুলিয়া, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ নদ জাটকার সবচেয়ে বড় বিচরণ ক্ষেত্র। বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ এবং ভোলার চরফ্যাসন ও তজুমদ্দিনে মেঘনা তীরবর্তী বিভিন্ন মাছঘাট থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ট্রলারে ইলিশের বাচ্চা পাঠানো হয় রাজধানীতে। বরিশাল জেলার হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনার ২২ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশের অভয়াশ্রম। মা ইলিশ রক্ষায় প্রতি বছর এখানে ২২ দিন এ মাছটি ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। সে সময়ও নির্বিচারে ইলিশ নিধনের সংবাদ উঠে আসে সংবাদমাধ্যমে। মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলার বিশাল মেঘনার তীরে গড়ে ওঠা ছোট-বড় শত শত মাছঘাট স্থানীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে। প্রত্যন্ত চরে বিদ্যুৎ থাকায় ডিপ ফ্রিজে মাছ মজুত করে রাখা হচ্ছে। প্রভাবশালী মাছঘাট মালিকরা মৌসুমি জেলেদের দিয়ে নদীতে জাটকা নিধন করছে। নিষিদ্ধের সময়ে প্রভাবশালীরা মৌসুমি জেলেদের ভাড়া করে তাদের দিয়ে জাটকা শিকার করায়।
যুগ্ম মহাসচিব, জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি

বিষয় : জাটকা রক্ষা

মন্তব্য করুন